বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত পথিক - সুভাষচন্দ্র বসু (১৯৫০).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আমার মতোই খেলাধূলা বিশেষ পছন্দ করত না। অবশ্য ড্রিলটা আমার মন্দ লাগত না। আমার নিজের উৎসাহের অভাব ছাড়াও আরো একটা কারণে খেলাধূলা নিয়ে মেতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ছেলেরা সাধারণত স্কুল ছুটির পর বাড়ি গিয়ে জলখাবার খেয়ে খেলার মাঠে আসত। আমার বাবা মা এটা পছন্দ করতেন না। হয়তো তাঁরা ভাবতেন খেলাধূলা নিয়ে বেশি মাতলে পড়ার ক্ষতি হবে, নয়তো তাঁদের ধারণা ছিল খেলার মাঠের আবহাওয়াটা আমাদের পক্ষে ক্ষতিকর। সম্ভবত শেষেরটাই প্রকৃত কারণ। যাই হোক, কখনো খেলবার ইচ্ছে হলে বাড়িতে না জানিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। আমার ভাই ও কাকাদের মধ্যে অনেকে প্রায়ই এভাবে লুকিয়ে খেলতে যেত। ধরা পড়লে একচোট বকুনি জূটত কপালে। কিন্তু বাবা মা প্রায় রোজই বিকেলে বেড়াতে বেরোতেন, কাজেই তাঁদের চোখে ধূলো দেওয়া কঠিন ছিল না। আমার নিজের যদি তেমন ইচ্ছে থাকত তবে কি আর খেলতে পারতাম না! কিন্তু নিজেরই আমার চাড় ছিল না।

 তাছাড়া আমি আবার একটু সূবোধ-সূশীল গোছের ছিলাম—প্রাণপণে সংস্কৃত নীতিকথা মূখস্ত করতাম। এইসব নীতিকথাতেই পেয়েছিলাম—‘পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ, পিতা হি পরমন্তপঃ’, জেনেছিলাম পিতার চেয়ে মাতা আরো বড়। এই জাতীয় সব নীতিকথা পড়ে আমি বাপমায়ের একান্ত বাধ্য হয়ে উঠেছিলাম।

 খেলাধূলা ছেড়ে আমারই মতো কয়েকটি সূবোধ-সূশীল ছেলেকে নিয়ে বাগান করায় মন দিয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে তরিতরকারি ও ফুলের বেশ বড় বাগান ছিল। মালীদের সঙ্গে আমরাও গাছে জল দিতাম, মাটি খূ’ড়তাম, চষতাম। আমার খূব ভালো লাগত। বাগান করতে করতেই আমি প্রকৃতির সৌন্দর্য সম্বন্ধে বেশ সচেতন হয়ে

৩৫