পাতা:ভারত পথিক - সুভাষ চন্দ্র বসু.pdf/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


ছাত্রদের খানিকটা পরিণত হবার আগে বিদেশে যাওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ বি. এ. পাশ করার পর যাওয়াই ভালো। তা নইলে বিদেশে শিক্ষার সুযোগকে তারা সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে পারবে না। উপরোক্ত ইণ্ডিয়ান স্ট‌ুডেন্ট কমিটিতে আমি যখন কেম্ব‌্রিজ ভারতীয় মজলিশের পক্ষ থেকে যাই তখনও একথাই বলেছিলাম। ব‍ৃটিশ পাবলিক স্কুলের শিক্ষা সম্বন্ধে চারদিকে অজস্র প্রশংসা শোনা যায়। বৃটিশ জনসাধারণ বা বৃটিশ ছাত্রদের উপর এই শিক্ষার কী ফল হয় তা বিচার করতে চাই না। কিন্তু ভারতীয় ছাত্রদের বেলায় যে ফলটা হয় সেটা যে আদৌ প্রীতিকর নয় তা জোর করে বলতে পারি। কেম্ব‌্রিজে বিলিতি পাবলিক স্কুল বৃক্ষের কয়েকটি ফলের সংস্পর্শে এসেছিলাম, তাদের মোটেই তেমন উচ্চশ্রেণীর জীব মনে হয়নি। যারা বাপমায়ের সঙ্গে বাস করে, স্কুলের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির শিক্ষাটাও পায় তাদের অবস্থা একলা-পড়তে-আসা ছেলেদের চেয়ে শতগ‍ুণে ভালো। গোড়ার দিকে শিক্ষাকে হতে হবে “জাতীয়”, তার শিকড় থাকা চাই দেশের জমির ভিতর। মনের পুষ্টিটা ও বয়সে নিজের দেশের সংস্কৃতি থেকেই আহরণ করা দরকার। চারাগাছকে উপযুক্ত সময়ের আগেই অন্য জমিতে চালান করলে সে বাঁচে কেমন করে? না, অল্প বয়সে কাঁচা ছেলেমেয়েদের বিদেশে স্কুলে পাঠানো মোটেই উচিত নয়। শিক্ষা বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে কেবল উপরের স্তরে এসে। তখনই ছাত্র দূরদেশে গিয়ে জ্ঞান আহরণের উপযুক্ত হয়, পূর্ব-পশ্চিম মিলতে পারে, পরষ্পরের উপকারে লাগতে পারে।

ভারতবর্ষে সিভিল সার্ভিসের সভ্যদের এককালে বলা হত ‘সবজান্তা'। এর কিছুটা সার্থকতা ছিল কারণ সবরকম কাজেই তাদের নিযুক্ত করা হত। যে শিক্ষা তারা পেত তাতে খানিকটা নিজেকে অদল-

১৩২