পাতা:ভারত পথিক - সুভাষ চন্দ্র বসু.pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কেউই বৃটিশ সরকারের বিরোধী ছিলেন না। বরং কেশবচন্দ্র খোলাখুলিভাবেই বলতেন যে বৃটিশ শাসন এদেশে ভগবানের আশীর্বাদস্বর‍ূপ। স্বাধীনচেতা ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লোক হলেও ঈশ্বরচন্দ্রও কখনো সরকার বা ইংরেজ জাতির সঙ্গে বিরোধিতা করেননি। আমার পিতাও প্রখর নীতিজ্ঞানসম্পন্ন হলেও সরকারবিরোধী ছিলেন না। এবং এজন্যই তিনি সরকারপক্ষের উকিল ও পাব‍্লিক প্রোসিকিউটরের পদ এবং সরকারী খেতাব গ্রহণ করেছিলেন। আমার জ্যেঠামশাই অধ্যক্ষ দেবেন্দ্রনাথ বসুর প্রকৃতি ঠিক বাবার মতোই ছিল। তাঁর নিষ্কলঙ্ক চরিত্র এবং অসাধারণ মনীষার জন্য ছাত্ররা তাঁকে দেবতার মতো ভক্তি করত। তিনিও শিক্ষাবিভাগে সরকারী চাকরি করতেন। একই কারণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৮৯৪) পক্ষে “বন্দে মাতরম্” গানটি রচনা করেও সরকারী চাকরি করা সম্ভব ছিল এবং ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও ডি. এল. রায়ের পক্ষে স্বদেশী গান রচনা করা অস্বাভাবিক মনে হয়নি। যে যুগসন্ধিক্ষণে এ ধরনের মনোভাব সম্ভবপর ছিল সে সময়ে দেশের লোকেদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ছিল না বললেই চলে। ১৯০৫ সালে জনমতের বিরুদ্ধে বঙ্গবিভাগ হবার পর থেকেই দেশে রাজনৈতিক সচেতনতা দেখা দেয় এবং তখন থেকেই সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের বিরোধের সুত্রপাত। আজকের দিনে সরকার সম্বন্ধে জনসাধারণ অত্যন্ত বির‍ুদ্ধভাবাপন্ন এবং সরকারও জনসাধারণের কার্যকলাপ সম্বন্ধে অতিমাত্রায় সন্দিগ্ধ। এখন আর ন্যায়-অন্যায় বোধকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখা চলে না—এবং ন্যায়ের পথ ধরলে রাজনৈতিক সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী। জাতীয় জীবনের অভিজ্ঞতা ধারা খণ্ডিতভাবে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনেই প্রতিফলিত হয়—আমার জীবনেও তার

২১