পাতা:ভারত পথিক - সুভাষ চন্দ্র বসু.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সময়ে পঞ্চম জর্জ কলকাতায় এলেন, বাড়ির আর সকলের সঙ্গে আমিও তখন সেই উপলক্ষে কলকাতায় বেড়াতে গেলাম। ফিরে এলাম যখন সম্রাটের দর্শন লাভ করে মন আনন্দে ভরপুর।

প্রথম রাজনৈতিক প্রেরণা পেয়েছিলাম আমি ১৯১২ সালে আমারই বয়সী একটি ছাত্রের (হেমন্তকুমার সরকারের) কাছ থেকে। ছেলেটি কটক ও পুরীতে বেড়াতে এসেছিল। প্রধানশিক্ষকমশাই বেণীমাধব দস তার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। ছেলেটি কলকাতার একটি রাজনৈতিক দলের সভ্য ছিল—এই দলের আদর্শ ছিল আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং দেশসেবা। এই দলের নেতা ছিল সুরেশচন্দ্র বানাজি বলে একটি ছেলে। ছেলেটি ডাক্তারী পড়ত। সমাজ ও দেশের নানা সমস্যা নিয়ে মাত্র মাথা ঘামাতে শুরু করেছি এমনি সময়ে ছেলেটির আবির্ভাব। আমাদের দলে একজন ছেলে সে যোগের চেয়ে দেশসেবাতেই বেশি বিশ্বাস করত। আর একজন ছেলে বাঙালী যোদ্ধা সুরেশ বিশ্বাসের মতো হবার স্বপ্ন দেখত—কর্নেল সুরেশ বিশ্বাস দক্ষিণ আমেরিকায় (বোধ হয় ব্রাজিল) গিয়ে সেখানে যথেষ্ট নাম কিনেছিলেন। আমার বন্ধুটি সুরেশ বিশ্বাসের পদাঙ্ক অনুসরণ করবার জন্য খুব কুস্তি লড়ত—আমরা তখন যোগ অভ্যাস করতেই ব্যস্ত। আগন্তুক ছেলেটি একদিন সুযোেগ বুঝে দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য সে সম্বন্ধে আবেগের সঙ্গে বহ‍ু, উপদেশ দিল। তাদের কলকাতার দলের বিচিত্র কার্যকলাপ সম্বন্ধে অনেক খবরও তার কাছে পাওয়া গেল। সব শুনে আমি তো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। কলকাতার মতো বড় শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত হওয়ার মধ্যে যে গৌরব আছে তার লোভে আমরা সকলেই ছেলেটির আবির্ভাবকে ভগবানের আশীর্বাদ বলেই মনে করলাম। কলকাতায় ফিরে গিয়ে

৫৫