বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভেজাল - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

কোলাহলকে ছুরি দিয়ে কাটার মতো তীক্ষা কণ্ঠের গান, চুমুকের পর চুমুক দিতে হয়েছে গেলাসে আর অনেক রকম পাশবিক প্রক্রিয়া দিয়ে করতে হয়েছে শিক্ষাদীক্ষা ভদ্রতার সঙ্গে প্যাচে প্যাচে জড়ানো বর্বরতাকে মুক্ত করার ব্যর্থ প্ৰয়াস। তারপর শ্ৰান্ত হয়ে একদিন দাড়ি কামিয়ে, স্নান করে পোষাক বদলে রায়বাহাদুরের বাড়িতে গিয়ে একবার, শুধু একবার, বাহুর বাঁধনে ধরা দেবার জন্য মাধবীকে মিনতি করা এবং এই মাটির সহরে ফিরে এসে তাদের কথা নিয়ে মাথা ঘামান, যাদের প্রত্যেকের মুখে সে ঘোষণাচিত্র দেখতে পায় : আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। তোমার টাকা আছে, সহায় আছে, বয়স আছে, আমাদের বঁাচাও । নির্মলেন্দুর মনে হয়, সত্যই এ দায়িত্ব তার। যাদের ইচ্ছা ছাড়া কিছু নেই, ধীরেনের মতো যাদের দুটি খন্দরের জামা সম্বল, তার চেষ্টা করেও কী করতে পারে ? এ-কাজ তার, ওদের নয়। তবুওরা প্ৰাণ দিতে চায়, হয়তো দিতেও পারে, তাই কাজ আরম্ভ হয়েছে ওদের রীতিতেই। কিন্তু এগোচ্ছে কই কাজ ? আত্মরক্ষার সাধ কই জাগছে তাদের মধ্যে যাদের তারা বাচাতে চায় ? অগ্ৰিম পুরস্কার হাত পেতে নিচ্ছে, তিরস্কার শুনে অপরাধীর মতো হাসছে। শাস্তি নেই, তাই যে যত পারে দিচ্ছে ফাকি। তবু এখনও ধীরেন, দিবাকর আর দীনেশ চাবুকের বিরোধী, শুধু কথা বলে বুঝিয়ে ওরা সকলের চেতনা e汁外itマ 5t可| রাঘবকে একদিন খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিঠের খানিকটা চামড়া টেছে নিয়ে সেখানে লঙ্কা বাটা লাগিয়ে দিলে, তার তিনটে তাত ভেঙে ফেললে আর ভেড়ির বাধা কেটে তার জমিতে লোণ জল ঢুকিয়ে দিলে, আরও সঁইত্রিশ জন কি সুতো নিয়ে কাপড় বোনার বদলে বেচে ফেলতে সাহস পেত ? মাইনে কাটা গেলে কি রোজ মজুরদের অসুখ করত ? V