"तिबिी भू१९थांका, गा।” “ও আবার কি কথা গগন ? অমান করে বলতে আছে ?” “আমি বললে দোষ হয় নাগো, মাঠান। আমার বলা হল গিয়ে | আশীৰ্বাদ-বামুনের ছেলে বটি তো।” খোকাকে কোলে নিয়ে গগন মুখে নানারকম আদরের শব্দ করে। খোকার নতুন শেখা ফোকলা হাসি তার লাগে বেশ। মনে হয় এ যেন | তার চেনা খোকা। কোনোরকম পরিচয়ের ভূমিকা ছাড়াই তাই একেবারে হাসাহসি সুরু হয়ে গেছে। নাকটি একটু বোচা খোকনের, ডগা বলা চলে এমন কিছু নেই। চোখের বাইরের কোণে স্পষ্ট ভার্জন | আর রেখা আছে। কানের পাতা দুটি মাথার সঙ্গে লেপটান। মনে হয় যেন আঠা দিয়ে এটে দেওয়া হয়েছে, আপনা থেকে গজায় নি। বেলার মা বললেন, “আট মাসে জন্মানো ছেলে। বলতে নেই, ছেলে দেখে সবাই তো অবাক। ডাক্তার বললে, হিসেবে ভুল হয়েছে, এ ছেলে দশ মাসের। কি কথা মুখপোড়া ডাক্তারের ! মেয়ের আমার বিয়ে হল দশ না এগার মাস”- শশধর এসে পড়েছিলেন। *আচ্ছা, আচ্ছ । ওসব কথা থাক। কাগজ কলম আনো দিকি, ফৰ্দটা করে ফেলি।” খোকাকে গগন তাড়াতাড়ি কোল থেকে মেঝেতে বসিয়ে দিল, অস্পৃশ্যকে বর্জন করার মতো । ঠোঁট ফুলিয়ে খোকা করল কঁাদবার উপক্রম। খোকার চিবুকের মাঝামাঝি একটু খাদের মতো আছে। পায়ের দুনম্বর আঙ্গুল দুটিও কি একটু খাপছাড়া রকমের বড় নয় খোকার ? “কি যে তুমি কর গগন ! কোল থেকে ছেলে নিলে, কোলে তো দিতে পারতে ? মাটিতে নামালে কোন বিবেচনায় ?” 88
পাতা:ভেজাল - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫০
অবয়ব