বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কে চ্যাঁচায়?—কেন চ্যাঁচায়?

 চা পান ক'রে প্রতাপ চ'লে গেলে পর দিলীপ আবার ভালো ক'রে পড়ায় মন দেবার চেষ্টা করছে, এমন সময় হঠাৎ বিষম তোড়ে বৃষ্টি নামল। টালিগঞ্জের-সেই নির্জ্জন ও অন্ধকার মাঠের শূন্যতা বৃষ্টি ও ঝড়ের কোলাহলে পূর্ণ হয়ে উঠল। দিলীপ উঠে জানলাগুলো বন্ধ ক'রে ঘরের দরজাটাও বন্ধ করতে যাচ্ছে, এমন সময় অবনী নীচে নেমে এসে ব্যস্ত হয়ে বললে, “দরজা বন্ধ করছ কি হে, এই বৃষ্টিতে আমি যাব কোথায়?”

 দিলীপ বললে, “কে তোমায় যেতে বলছে? ঘরের ভেতরে এস। ইজি-চেয়ারে শুয়ে চুপ ক’রে বৃষ্টির গান শোনো, আর আমি নিজের মনে লেখাপড়া করি।”

 অবনী ঘরে ঢুকে ইজি-চেয়ারে ব’সে প'ড়ে বললে, “এই বাদলায় রাখো তোমার লেখাপড়া! এস, খানিকটা গল্প-গুজব করা যাক্।”

 দিলীপ অনিচ্ছাসত্ত্বেও বই মুড়ে বললে, “আজ যখন শনি-অবতার তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে, তখন আমার লেখাপড়া যে হবে না সেটা আগেই বুঝতে পেরেছিলুম! বেশ, তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক্‌!”

 বাইরে পড়তে লাগল বৃষ্টি, আর ভিতরে চলতে লাগল দুই-বন্ধুর গল্প। একঘণ্টা পরেও বাইরের বৃষ্টি ও ভিতরের গল্প থামবার কোন লক্ষণই দেখা গেল না।

 ঘরের ঘড়ীতে টুং-টুং ক’রে যখন এগারোটা বেজে গেল, অবনীর তখন