খেয়াল হ'ল যে, তাকে আজ বাড়ী ফিরতে হবে। কিন্তু জানলার উপরে তখনও ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কার সঙ্গে বৃষ্টি-পড়ার অশ্রান্ত শব্দ হচ্ছে।
দিলীপ বললে, “অবু, আজ বাড়ী ফেরার কথা ভুলে যাও। এখান থেকে বেরুলে তোমাকে সাঁতার কাটতে হবে।”
অবনী উঠে দাঁড়িয়ে বললে, “তাই সই। বাবা আমার অপেক্ষায় ব'সে আছেন, সব কথা শোনবার জন্যে। চললুম।” সে এগিয়ে গিয়ে ঘরের দরজাটা খুললে।
—সঙ্গে-সঙ্গে সেই বৃষ্টি ও ঝড়ের শব্দের ভিতবেই বাহির থেকে ভেসে এল একটা ভীত আর্ত্ত চীৎকার! অবনী চম্কে ফিরে দাঁড়াল।
দিলীপও লাফ্ মেরে উঠে দাঁড়িয়ে বিস্মিত-কণ্ঠে বললে, “কে চীৎকার করলে?”
দুই বন্ধুই দরজার কাছে উৎকর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আগেই বলেছি, দিলীপের বাসা যে-জায়গায় তার কাছে কোন লোকালয় নেই। এই ঝড়-জলে পথেও কোন লোক থাকবার কথা নয়। এখানে কে চীৎকার করবে?
অবনী ভয়ে ভয়ে বললে, “অন্ধকারে পথে কেউ মোটর-চাপা পড়ল নাকি?”
দিলীপ ঘাড় নেড়ে বললে, “পাগল! পথ এখন জলের তলায়, সেখানে মোটর চালাবার সখ কারুর হবে না।”
অবোর শোনা গেল—কেউ যেন দারুণ আতঙ্কে প্রায় অবরুদ্ধ স্বরে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আর্ত্তনাদের পর আর্ত্তনাদ করছে! এবারে বেশ বোঝা গেল, শব্দটা আস্ছে দিলীপের বাসার উপরতালা থেকেই।