বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মড়ার মৃত্যু

 অবনী কম্পিত স্বরে বললে, “এ যে ভৈরববাবুর গলা! তিনি তো ঘরে একলা আছেন! কী দেখে তিনি ভয় পেয়েছেন?”

 দিলীপ কয়েক পদ অগ্রসর হয়ে বললে, “সেটা জানতে হ'লে আমাদেরও ওপরে যেতে হয়।”

 অবনী বললে, “তাহ'লে আমিই ওপরে যাই, তুমি এইখানে দাঁড়াও। ভৈরববাবু তাঁর ঘরে বাইরের লোক-আসা পছন্দ করেন না!”

 —“পছন্দ করেন না! কেন?”

 —“তাঁর ঘরের সাজসজ্জা অদ্ভুত। বাইরের লোক সে সব দেখলে কেবল অবাকই হবে না, ভয় পেতেও পারে, তাঁকে পাগলও ভাবতে পারে!” ব'লেই অবনী দ্রুতপদে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেল।

 দিলীপ সেইখানেই চুপ ক'রে দাঁড়িয়ে, বিস্মিত মনে অবনীর কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শুনতে লাগল, ভৈরবের বদ্ধকণ্ঠের অস্ফুট কাৎরানি!

 তারপরই শোনা গেল উপর থেকে অবনীর ব্যস্ত কণ্ঠস্বর—“দিলীপ, দিলীপ! শিগ্‌‌গির, শিগ্‌‌গির ওপরে এসো! ভৈরববাবু মরো-মরো হয়েছেন!”

 দিলীপ তিন-চার লাফে দোতালার সিঁড়িগুলো পার হয়ে ভৈরবের ঘরের সুমুখে গিয়ে দাঁড়াল। খোলা দরজা দিয়ে উজ্জ্বল বিদ্যুৎ-আলোকে ঘরের ভিতরটা স্পষ্টরূপে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। ঘর দেখে সত্যিসত্যিই তার চক্ষু স্থির হয়ে গেল! এমন দৃশ্য সে জীবনে আর কখনো দেখেনি!

 পণ্ডিতরা প্রাচীন মিশরের মাটি খুঁড়ে অতীতের সমাধিমন্দির প্রভৃতি থেকে যে-সব অদ্ভুত মূর্ত্তি আবিষ্কার করেছেন, দিলীপ অনেক কেতাবে তাদের অসংখ্য ছবি দেখেছে। ঘরের দেওয়ালের সামনে দাঁড় করানো রয়েছে সেই