রকম অনেকগুলো ছোট-বড় কাঠের মূর্ত্তি! মূর্তিগুলোর চেহারা মানুষের মতই, কিন্তু তাদের কারুর মাথা ষাঁড়ের মত, কারুর মাথা সারস পাখীর মত, কারুর বা বিড়াল কি প্যাঁচার মত! এরাই ছিল প্রাচীন মিশরের দেব-দেবী! ঘরের কড়িকাঠ থেকে ঝুলছে একটা কুমীরের মৃতদেহ—দিলীপ জানত, কুমীরও ছিল প্রাচীন মিশরীদের কাছে দেবতাস্থানীয়।
ঘরের মাঝখানে একটা বড় টেবিলের উপরে প্রাচীন মিশরের একটা ‘কফিন্’ বা ‘মমি’র বাক্স, তার ডালা খোলা। এবং তারই ভিতরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা মিশরী ‘মমি’ বা মানুষের সুরক্ষিত মৃতদেহ!
কলকাতার যাদুঘরে দিলীপ একটা ‘মমি’ দেখেছিল। সেটা হচ্ছে কয়েক হাজার বছর আগেকার একটি মিশরীয় নারীর মৃতদেহ! সে মড়াটার দেহ কলকাতার স্যাঁত্স্যাতে আবহাওয়ায় এসে শীঘ্রই জীর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই আগে সেটা দাঁড় করানো ছিল বটে, কিন্তু এখন তাকে শুইয়ে রাখতে হয়েছে। যাদুঘরের ঐ ‘মমি’টা হচ্ছে স্ত্রীলোকের মৃতদেহ, তার দেহের নানান্ জায়গা খ'সে পড়েছে, কিন্তু আজ সে চোখের সামনে প্রাচীন মানুষের যে সুরক্ষিত দেহটা দেখলে, এটা পুরুষের দেহ, আর এমন পূর্ণাঙ্গ ও জীবন্তের মত দেখতে যে তাকে মৃতদেহ ব'লে কল্পনা করাও অসম্ভব! যদিও হাজার হাজার বছরের মহিমায় তার গায়ের রং অস্বাভাবিকরূপে কালো হয়ে গিয়েছে, তার সমস্ত শরীর রীতিমত অস্থিচর্মসার হয়ে গিয়েছে, তবু তার শুক্নো, বীভৎস মুখের দিকে তাকালে মন এক অপার্থিব ভয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
‘মমি’টার ঠিক ‘পায়ের তলাতেই ঘরের মেঝের উপরে লম্বা হয়ে প’ড়ে রয়েছে ভৈরবচন্দ্রের দেহ এবং তার হাতে রয়েছে কোষ্ঠী-ঠিকুজীর মত পাকানো