একখানা আধ-খোলা লম্বা কাগজ। দিলীপ বুঝলে, সেখানা হচ্ছে প্রাচীন মিশরের ‘পাপিরাস্’ পাতার পুঁথি!
অবনী কাতর কণ্ঠে ব'লে উঠল, “ভৈরববাবু বোধ হয় আর বাঁচবেন না!”
দিলীপ হচ্ছে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র, এত সহজে কাতর হবার পাত্র নয়। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে ভৈরবের পাশে গিয়ে ব'সে পড়ল এবং তার দেহটা পরীক্ষা ক’রে বললে, “ভয় নেই অবনী, ভৈরববাবু কেবল অজ্ঞান হ'য়ে গেছেন। তুমি এগিয়ে এসে এঁর পা দু'টো ধরো, মাথার দিক আমি ধরছি। এখন চল, এঁকে ঐ শোফার উপরে শুইয়ে দিতে হবে। জলের কুঁজোটা নিয়ে এস, ভৈরববাবুর মুখে আর বুকে জলের ঝাপ্টা দাও।......কিন্তু এঁর এমন দশা হ'ল কেন?”
অবনী বললে, “জানি না। ঘরে এসে ওঁকে আমি ঐ অবস্থাতেই দেখেছি।”
দিলীপ ভৈরবের বুকের উপর হাত রেখে বললে, “এঁর বুক যেন হাপরের মতন উঠ্ছে নাব্ছে! বেশ বোঝা যাচ্ছে, ভয়ানক কিছু দেখেই ইনি ভীষণ ভয় পেয়েছেন।”
অবনী বললে, “তাহ’লে হয়তো যত নষ্টের গোড়া ঐ ‘মমি’টা!”
—“‘মমি’? কি-রকম?”
—“ঐ কত-হাজার বছরের পুরাণো মড়া দেখলে কার না ভয় হয়? জ্যাস্তো মানুষের পক্ষে এ-সব ভুতুড়ে ব্যাপার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা ভালো নয়। কিছুকাল আগে আর একবারও এঁকে আমি এই অবস্থায় দেখেছিলুম। সেদিনও ইনি ঐ ভুতুড়ে মূর্ত্তিটার পায়ের তলায় এমনিভাবেই অজ্ঞান হয়ে প’ড়েছিলেন।”