বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
মড়ার মৃত্যু

 —“‘মমি’টাকে নিয়ে ইনি কি করতে চান?”

 —“কে জানে! ভৈরববাবুর মাথায় বোধ হয় ছিট্‌ আছে। এই-সব জিনিষ নিয়ে নাড়াচাড়া করাই হচ্ছে ওঁর বাতিক! আমি কত মানা করি—বলি, জীবন্তের সঙ্গে মৃতের সম্পর্ক রাখা ভালোও নয় উচিতও নয়! শুনে উনি হাসেন, বলেন, এ-হচ্ছে আমার শব-সাধনা!”

 —“চুপ্‌! রোগীর জ্ঞান ফিরে আসছে।”

 ভৈরবের মুখ এতক্ষণ সাদা ফ্যাকাসে দেখাচ্ছিল, এইবারে তার উপরে এক্‌‌টু-এক্‌‌টু ক'রে রঙের আভাস ফুটে উঠছে। তার শ্বাসপ্রশ্বাসও ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে এল। খানিক পরে সে চোখ খুলে ঘরের এদিকে-ওদিকে তাকিয়ে দেখলে। হঠাৎ তার চোখ পড়ল ‘মমি’র দিকে, সঙ্গে-সঙ্গে সে উঠে বসল এবং তার পরেই এক লাফে এগিয়ে গিয়ে পাকানো ‘পাপিরাস্’ কাগজের সেই পুঁথিখানা তুলে নিয়ে তাড়াতাড়ি টেবিলের একটা টানার ভিতরে পূরে ফেললে। তারপর ফিরে দাঁড়িয়ে ক্রুদ্ধ স্বরে বললে, “আমার ঘরে বাইরের লোক কেন? আপনাদের কি দরকার?”

 অবনী আহত স্বরে বললে, “দরকার আমাদের কিছুই নেই! আপনি চীৎকার ক’রে কাঁদছিলেন, তাই শুনে আমরা এসেছি সাহায্য করতে।”

 ভৈরব অপ্রতিভ স্বরে বললে, “এই যে, দিলীপবাবু! আমার এখন মাথার ঠিক নেই, কি বলতে কি ব'লে ফেলেছি, আপনারা আমাকে মাপ্ করবেন। ভাগ্যিস আপনারা এসেছিলেন, নইলে কি যে হ’ত জানি না! ওঃ, আমি কি নির্ব্বোধ, আমি কি নির্ব্বোধ!”—বলতে বলতে আবার সোফার উপরে গিয়ে ব’সে প'ড়ে দুই হাতের ভিতরে মুখ ঢেকে ফেললে।

 অবনী ভৈরবের কাছে গিয়ে তার মাথার উপরে হাত রেখে