বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কে চ্যাঁচায়? -কেন চ্যাঁচায়?
১৩

বললে, “ভৈরববাবু, আপনি আগুন নিয়ে খেলা করছেন! নিশুত্ রাতে ‘মমি’ নিয়ে নাড়াচাড়া করা মানুষের উচিত নয়। কিসে কি হয় বলা যায় না।”

 ভৈরব মুখ তুলে মৃদুস্বরে বললে, “অবনীবাবু, আমি যা দেখেছি, তা যদি আপনিও দেখতেন, তাহ’লে এতক্ষণে নিশ্চয়ই পাগল হয়ে যেতেন।”

 —“কী দেখেছেন আপনি?”

 ভৈরব হঠাৎ গলার স্বর বদ্‌‌লে বললে, “না, এমন কিছু নয়। আমি বলছি কি, দুপুর রাতে ‘মমি'র সঙ্গে থাক্‌‌তে হ'লে অনেকেরই সাহসে কুলোবে না!......একি, আপনারা চ'লে যাচ্ছেন নাকি? না, না, এখনি যাবেন না, আর-একটু বসুন!”

 অবনী বললে, “ঘরের ভেতরে এ কিসের গন্ধ? দম যেন বন্ধ হয়ে অসছে!”

 টেবিলের উপরের একটা পাত্র থেকে শুক্‌‌নো পাতার মত কিকতকগুলো তুলে নিয়ে একটা জ্বলন্ত ধুনুচীর ভিতরে নিক্ষেপ ক'রে ভৈরব বললে, “এ হ’চ্ছে মিশরী পুরুতদের পবিত্র ধূনো। .......আচ্ছা অবনীবাবু, আমি কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে ছিলুম?”

 —“বেশীক্ষণ নয়, মিনিট পাঁচ-ছয়।”

 ভৈরব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললে, “অচেতনতা হচ্ছে এক অদ্ভুত জিনিষ! অচেতনতার মধ্যে সময়ের মাপ নেই। অজ্ঞান হয়ে থাকলে কেউ বুঝতে পারে না তার অসাড়তার ভিতর দিয়ে কয়েক মুহূর্ত্ত কি কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে! টেবিলের উপরে ঐ যে মৃত মানুষটিকে দেখছেন, প্রাচীন মিশরে ও বেঁচে ছিল চার হাজার বছর আগে! কিন্তু ওকে যদি এখনি জাগাতে