পারা যায়, ও হয়তো বলবে, মিনিট-খানেক আগেই ও বেঁচে ছিল! দিলীপ বাবু, এই ‘মমি’টা খুব চমৎকার, নয়?”
পচা-মড়া কাটাই হচ্ছে দিলীপের ব্যবসা। নরদেহের নাড়ীনক্ষত্র তার জানা আছে। ‘মমি’টার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে সে তাকে ভালো ক'রে আবার দেখতে লাগল। তার দেহের মাংস শুকিয়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু কোথাও কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অভাব নেই। হাড়ের উপরে চামড়া এখনো ‘টাইট্’ হয়ে চেপে আছে, দুই কানের উপরে রুক্ষ ঝাঁকড়া চুলগুলো এখনো ঝুলে রয়েছে। কোটরের ভিতরে বাদামের মতন দুটো তীক্ষ্ণ চোখ এখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ভৈরব উঠে দাঁড়িয়ে ‘মমি'র কপালের কোঁচ্কানো চাম্ড়ার উপরে হাত রেখে বললে, “এই প্রাচীন ভদ্রলোকের নাম আমি জানি না। এঁকে আমি কিনেছিলুম একটা নিলাম থেকে।”
দিলীপ বললে, “জ্যান্তো অবস্থায় লোকটি বোধহয় খুব জোয়ান ছিল।”
—“খালি জোয়ান নয়, অতিকায়। মাথায় এই লোকটি ছয় ফুট সাত ইঞ্চি উঁচু! এর হাড়গুলো কি-রকম চওড়া দেখুন। এ যদি এখন জ্যান্তো হয়ে ওঠে, তাহ’লে গায়ের জোরে আমরা কেউ এর সঙ্গে যুঝ্তে পারব না।”
ভৈরব বেশ সহজভাবেই কথা কইবার চেষ্টা করছিল বটে, কিন্তু দিলীপ স্পষ্ট বুঝতে পারলে, তার মনের ভিতরটা এখনো ভয়ে থম্-থম্ করছে! তার হাত কাঁপছে, তার ঠোঁট কাঁপছে এবং তার চোখের দৃষ্টি থেকে থেকে কেবলি সেই ‘মমি'টার মুখের দিকে ফিরে যাচ্ছে। তবু ভার ভয়ের ভিতর থেকেও যেন একটা আনন্দের আভাসও ফুটে উঠছে!