বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

কে কথা কয়, খাবার খায়, চলাফেলা করে?

 তারপর থেকেই দিলীপের সঙ্গে ভৈরব রীতিমত মাখামাখি সুরু ক'রে দিলে। যদিও দিলীপ খুব মিশুক লোক ছিল না, এবং ভৈরবের কর্কশ স্বভাব তার বিশেষ ভালো লাগত না, তবু সাধারণ ভদ্রতার অনুরোধে ভৈরবের সঙ্গে তাকে অল্পবিস্তর মেলামেশা করতেই হ’ল। ভৈরব প্রায়ই তার কাছ থেকে নানা শ্রেণীর বই পড়বার জন্যে নিয়ে যেত এবং সেও মাঝে মাঝে তার কাছ থেকে ভালো ভালো বই চেয়ে আনত।

 এইভাবে দিন-কয়েক পরে পরিচয় কিঞ্চিৎ ঘনিষ্ঠ হ'লে দিলীপ বুঝলে যে, নানা বিষয়েই ভৈরব হচ্ছে অসাধারণ পণ্ডিত। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে দিলীপ তার কাছে প্রায় শিশু। প্রাচীন মিশর সম্বন্ধে তার চেয়ে বিশেষজ্ঞ লোক বোধহয় সারা ভারতবর্ষে নেই।

 দিলীপ একদিন কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলে, “আচ্ছা ভৈরববাবু, প্রাচীন মিশরীরা মড়াকে ‘মমি’ ক’রে কবর দিত কেন?”

 ভৈরব বললে, “প্রাচীন মিশরের বিশ্বাস ছিল, আত্মা অমর। পৃথিবীর মৃত্যুর পরে আর অনন্ত জীবন আরম্ভ হবার আগে দেহ ছেড়ে আত্মা কিছুকাল আলাদা হয়ে থাকে বটে, কিন্তু তারপর আবার পার্থিব দেহের ভিতরেই ফিরে আসে। আত্মা আর দেহের এই পুনর্মিলনের আগেই নশ্বর দেহ পাছে নষ্ট হয়ে যায়, সেই ভয়ে মিশরীরা নানারকম রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে দেহকে চিরস্থায়ী ক’রে রাখবার চেষ্টা করত। তারা দেহকে কফিনে পুরে