বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কে কথা কয়, খাবার খায়
১৭

কেবল গোর দিয়েই নিশ্চিন্ত হ'ত না, আত্মা যে-দিন আবার দেহের ভিতরে ফিরে আসবে, তখন তার জীবনযাত্রানির্ব্বাহের জন্যে কবরের ভিতরে খাবারদাবার, কাপড়-চোপড়, খাট-বিছানা, তৈজসপত্র প্রভৃতি যা-কিছু দরকার সবই রেখে দিত। রাজা-রাজড়া আর সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যু হ'লে তাঁদের দাসদাসীদেরও দেহের সঙ্গে কবরে যেতে হ’ত, অর্থাৎ তাদের হত্যা ক’রে দেহগুলো কবরে পাঠানো হ’ত—যাতে-ক'রে দেহের ভিতরে ফিরে এসে রাজার আত্মা লোকাভাবে কষ্ট না পায়!”

 —“ভৈরববাবু, আপনি কি এই বিশ্বাস সত্যি ব’লে মনে করেন?”

 —“আমি কি সত্যি ব'লে ভাবি, সে-কথা শুনে কি হবে? তবে প্রাচীন মিশরের পুরুতরা যে মমিকে বাঁচিয়ে তোলবার মন্ত্র জানত, এটা হয়তো মিথ্যা নয়!”

 —“সে মন্ত্র এখন আর কেউ জানে না?”

 —“প্রাচীন মিশরে যে অদ্ভুত মানুষরা বাস করত, তাদের কেউ আর বেঁচে নেই, ‘মমি’ রূপে নষ্ট হয় নি কেবল তাদের দেহগুলো! তবে পুরাণো পাপিরস-পাতার গুটানো পুঁথিতে মড়া-জাগানো মন্ত্র-তন্ত্র এখনো পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সে-রকম পুঁথি এখন অত্যন্ত দুর্লভ।”

 —“আপনি প্রাচীন মিশরের ভাষা জানেন?”

 —“জানি।”

 —“তাদের মড়া-জাগানো মন্ত্র আপনি কখনো পড়েছেন?”

 —“আমি? না, সে সৌভাগ্য আমার হয় নি”—ব’লেই ভৈরব অন্য প্রসঙ্গ তুললে।

 কিন্তু সে প্রসঙ্গটাও হচ্ছে মমির প্রসঙ্গ। সে বললে, “প্রাচীন