বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
মড়ার মৃত্যু

মিশরের মানুষরা তাদের সভ্যতা আর অনেক গুপ্তকথা নিয়ে পৃথিবী থেকে চিরকালের মত লুপ্ত হয়ে গেছে বটে, মমিদের জ্যান্তো মানুষ ক'রে তোলবার বিদ্যাও আজ কেউ জানে না বটে, কিন্তু মিশরের পুরাণো গোরস্থানের মধ্যে আজও যে দেহহীন আত্মারা জীবন্ত হয়ে আছে, মিশর সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ অনেক বিলাতী পণ্ডিত এই বৈজ্ঞানিক যুগেও সে সন্দেহ প্রকাশ না ক'রে পারেন না! বিলাতী সংবাদপত্রেও প্রায় পড়া যায়, কৌতূহলী সাহেব-ভ্রমণকারীরা মিশর থেকে মমি কিনে বিলাতে নিয়ে গিয়ে নানান অলৌকিক কাণ্ড দেখেছেন, আশ্চর্য্য সব বিপদে পড়েছেন! কবর থেকে বার ক'রে আনলে মমি যে অভিশাপ বহন ক'রে আসে, এ-কথা তো এখন চল্‌‌তি বিলাতী প্রবাদের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে! যে সব বিখ্যাত সাহেবপণ্ডিত মাটি খুঁড়ে প্রাচীন মিশরের কবর ঘেঁটে তছ্‌‌নছ্ করেন, তাঁদের অনেকেই যে পরে নানা দৈবদুর্ঘটনায় অপঘাতে মারা পড়েন, এ-কথাও সবাই জানে! এই-সব দেখে-শুনে স্বীকার করতে হয় যে, আজ আমরা যাদের মমি দেখি, তাদের আত্মা এখনো মরে নি, নিজেদের পার্থিব দেহকে এখনো তারা ভালোবাসে এবং সুযোগ পেলেই আবার সেই দেহে ফিরে আসতে চায়! আমরা হিন্দু, আমরাও প্রাচীন জাতি, আর আমরাও আত্মার অমরতায় বিশ্বাস করি। দেহের প্রতি মমতা থাকলে পাছে আত্মা পৃথিবী ছাড়তে না চায়, হয়তো সেই ভয়েই হিন্দুদের শাস্ত্র বিধান দিয়েছে, আগুনে পুড়িয়ে মৃতদেহকে একেবারে ধ্বংস ক’রে ফেলতে!”

 সময়ে সময়ে দিলীপের মনে হ'ত, ভৈরবের মধ্যে উন্মাদরোগের পূর্ব্বলক্ষণ দেখা দিয়েছে! একদিন কথা কইতে কইতে হঠাৎ সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ব’লে উঠল, “মঙ্গল আর অমঙ্গলকে নিজের অধিকারে আনতে পারা—