বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কে কথা কয়, খাবার খায়
১৯

ওঃ সে কী সৌভাগ্য! স্বর্গের দেবতা আর নরকের দানবকে যদি আমার হাতের মুঠোয় পাই, তাহ'লে আমি পৃথিবী শাসন করতে পারি!”

 আর একদিন সে বললে, “অবনীর বোনকে আমি বিয়ে করব বটে, কিন্তু অবনী কোন কর্মেরই নয়! অবশ্য মানুষ হিসাবে অবনী ভালো লোক, কিন্তু যার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, সে তার যথার্থ বন্ধু হ'তে পারবে না। সে আমার বন্ধু হবার যোগ্য নয়!”

 আজ ক’দিন থেকে তাকে আবার একটা নূতন রোগে ধরেছে। দিলীপ নীচে থেকে প্রায়ই শুনতে পায়, উপরের ঘরে একলা ব’সে ভৈরব নিজের সঙ্গে নিজেই কথা কয়! গভীর রাতে দিলীপ পড়াশুনো করছে, উপরের ঘরে বাইরের জনপ্রাণী নেই, অথচ চারিদিকের নিস্তব্ধতার মধ্যে বেশ শোনা যায়, ভৈরব খুব মৃদু স্বরে প্রায় ফিস্-ফিস্ ক'রে—আপন মনে কথাবার্ত্তা কইছে!

 তার এই অদ্ভুত অভ্যাসে বিরক্ত হয়ে দিলীপ একদিন বললে, “ভৈরববাবু, নিজের সঙ্গে নিজেই গল্প করতে কি আপনার খুব ভালো লাগে?”

 ভৈরব চম্‌‌কে উঠে বললে, “আমি কি নিজের সঙ্গে গল্প করি? না, না, আপনি ভুল শুনেছেন!”

 কিন্তু দিলীপ ভুল শোনে নি, শীঘ্রই সে প্রমাণ পাওয়া গেল। কেষ্ট হচ্ছে দিলীপের পুরাণো চাকর। সে একদিন বললে, “বাবু, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?”

 —“কি কথা?”

 —“ওপরের ঘরের ঐ বাবুটির মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?”

 —“কেন?”