বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
মড়ার মৃত্যু

 —“আমার তো তাই মনে হয়। ঘরে কেউ থাকে না, অথচ তিনি কথা বলেন কার সঙ্গে?”

 —“সে কথায় তোমার দরকার কি কেষ্ট?”

 —“দরকার নেই বটে, কিন্তু এটা কি আশ্চয্যি নয়? এর চেয়েও আশ্চয্যি কি জানেন? বাবুটি যখন নিজের ঘরের দরজায় চাবি বন্ধ ক'রে বাড়ীর বাইরে বেরিয়ে যান, তাঁর ঘরের ভেতরে মেঝের ওপরে ভারি ভারি পা ফেলে তখনো কে বেড়িয়ে বেড়ায়! বাবু, এ-সব ভালো কথা নয়, আমার ভারি ভয় হয়!

 —“কী বাজে বক্‌ছ!”

 —“বাজে নয় বাবু, আমি নিজের কাণে শুনেছি! কেবল ঘরের ভেতরে নয় বাবু, এক-একদিন বাইরেও পায়ের শব্দ শুনতে পাই। একদিন হ'ল কি, আমি উঠোনের কোণে আমার ঘরের সামনে ব’সে তামাক সাজচি। তখন সন্ধ্যে উৎরে গেছে, উঠোনের ওদিকটা অন্ধকার। বাসায় কেউ ছিল না ব'লে সদর দরজায় খিল দিয়ে রেখেছি। হঠাৎ শুনলুম, সিঁড়ি দিয়ে কে নেমে আসছে! বাসায় কেউ নেই, তবু সিঁড়ি দিয়ে কে নামে! আমি সুধুলুম—‘কে যায়?’ সাড়া পেলুম না, কিন্তু উঠোনের যেখানটা অন্ধকার, সেখানে শুনলুম কার পায়ের শব্দ! তারপরই দুম্ ক’রে সদরের খিল খুলে গেল আর দরজা খুলে আবার বন্ধ হয়ে গেল! এ কী কাণ্ড, বাবু!”

 —“কেষ্ট, ভৈরববাবু নিশ্চয়ই তোমার অজান্তে বাসায় ছিলেন, বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনিই!”

 —“তাহ’লে তিনি সাড়া দিলেন না কেন?”

 —“সেটা তাঁর খুসি।”