বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২
মড়ার মৃত্যু

 —“তাহ’লে আর-একটা কথা বলি শুনুন। ভৈরববাবুর খাবার আসে রোজ হোটেল থেকে, জানেন তো? এতদিন দু-বেলা একজনের জন্যেই খাবার আসত, কিন্তু হোটেলের চাকরের মুখে শুনলুম, আজকাল রোজ রাত্রে খাবার আসে দুজনের জন্যে! ভৈরববাবু একলা, কিন্তু তাঁর ঘরে রাত্রে দুজনের খাবার যায় কেন? সে খাবার কে খায়?”

 —ভৈরববাবুই। হয়তো তাঁর ক্ষিধে বেশী, একজনের খাবারে কুলোয় না।”

 —“কিন্তু তাঁর ক্ষিধে কি রাত্রেই বাড়ে? সকালে তো দুজনের খাবার আসে না? আর আগে তো তাঁর এমন রাক্ষুসে ক্ষিধে ছিল না? হঠাৎ তাঁর রাতের ক্ষিধেই বা বাড়ল কেন? যখন থেকে এই আশ্চয্যি পায়ের শব্দ পাচ্ছি, তাঁর ক্ষিধে বেড়েছে তখন থেকেই!”

 —“কেষ্ট, তুমি একটি রাবিস!”

 —“বিশ্বাস করছেন না, কি আর বলব!”—এই ব’লে কেষ্ট চ'লে গেল।

 দিলীপ অবাক হয়ে ভাবতে লাগল—ভৈরব যখন ঘরে থাকে না, তখন কে সেখানে চলা-ফেরা করতে পারে? ভৈরব কি তার ঘরের ভিতরে অন্য কোন লোককে লুকিয়ে রেখেছে? সে কে? আর লুকিয়েই বা থাকবে কেন? আজ কেষ্ট যে এই দুজনের খাবারের কথা বললে, সেটাই বা কী ব্যাপার? যদি ধরি, ভৈরবের ঘরে কেউ লুকিয়ে আছে আর দুজনের খাবার আসে সেই জন্যেই, তাহ'লে রোজ সকালেও দুজনের খাবার আসে না কেন? সকালে সে কি উপোস ক'রে থাকে?.........এ-সবই যে ধাঁধার মতন গোল্‌‌মেলে কাণ্ড! কেষ্টকে ঠাট্টা ক’রে উড়িয়ে দিলুম বটে, কিন্তু আমাকেও যে ভাবিয়ে তুললে!