বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আবার পদশব্দ

 সে রাত্রে ভৈরব নেমে এসে দিলীপের সঙ্গে গল্প করছিল।

 কথা কইতে কইতে দিলীপ স্পষ্ট শুনতে পেলে, দোতালার ঘরের মেঝে কার পদশব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে—কে যেন ভারি ভারি পা ফেলে পায়চারি ক'রে বেড়াচ্ছে! তারপরেই দুম্ ক'রে উপরের দরজার আওয়াজ!

 দিলীপ সচমকে ব'লে উঠল, “ভৈরববাবু, কে আপনার ঘরের দরজা খুললে, কি বন্ধ করলে!”

 ভৈরব এক লাফে উঠে প'ড়ে একান্ত অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে রইল! তার মুখের ভাব দেখলে মনে হয়, সে যেন ভয়ও পেয়েছে এবং দিলীপের কথা বিশ্বাসও করতে পারছে না!

 সে থেমে থেমে বললে, “ঘরের দরজায় নিশ্চয়ই আমি তালা দিয়ে এসেছি। হ্যাঁ, সে-বিষয়ে কোনই সন্দেহ নেই! দরজা খোলা অসম্ভব!”

 —“শুনুন ভৈরববাবু, শুনুন! সিঁড়ির ওপরে পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন? কে নীচে নেমে আসছে!”

 ভৈরব বেগে বাইরে ছুটে গিয়ে দিলীপের দরজার পাল্লা দুখানা চেপে বন্ধ ক'রে দিলে এবং দ্রুতপদে সশব্দে সিঁড়ি ব'য়ে উপরে উঠতে লাগল। সিঁড়ির মাঝামাঝি উঠে তার পায়ের শব্দ হঠাৎ থেমে গেল এবং তারপরে শোনা গেল ফিস্-ফিস্ ক'রে কথার আওয়াজ! খানিক পরে আবার দোতালা