বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪
মড়ার মৃত্যু

ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হ’ল, তারপর ভৈরব নিচেয় এসে ফের যখন দিলীপের ঘরে ঢুকলে, তখন তার কপাল বয়ে নেমে আসছে ঘামের দর-দর ধারা!

 অবসন্নের মত চেয়ারের উপরে ব'সে প'ড়ে ভৈরব হাঁপাতে হাঁপাতে বললে, “নাঃ, সব ঠিক আছে! ঐ হতচ্ছাড়া কুকুরটার কাণ্ড আর কি! সেইই দরজাটা খুলে ফেলেছিল, আমি তালা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলুম কিনা!”

 ভৈরবের বিকৃত মুখের দিকে স্থির-দৃষ্টিতে তাকিয়ে দিলীপ বললে, “আপনার যে আবার একটা কুকুর আছে, এ-খবর তো আমার জানা ছিল না।”

 —“হ্যাঁ, সবে পুষেছি। আবার তাড়িয়ে দেব, জ্বালিয়ে মারলে!”

 —“আমিও কুকুর ভালোবাসি। একবার তাকে আনুন না, দেখব।”

 —“বেশ তো, তবে আজ নয়। আজ আমার একটা জরুরি কাজ আছে, এখনি বাইরে যেতে হবে।”

 ভৈরব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল। কিন্তু দিলীপ নীচে ব’সেই শুনতে পেলে, জরুরি কাজে বাইরে না গিয়ে সে নিজের ঘরে ঢুকেই ভিতর থেকে দরজায় খিল বন্ধ ক’রে দিলে!

 দিলীপ মনে মনে খাপ্পা হয়ে উঠল। ভৈরব তাহ’লে পয়লা-নম্বরের মিথ্যাবাদী! এমন কাঁচা মিথ্যাকথা কইলে যে, একটা শিশুকেও ফাঁকি দিতে পারবে না! ঘরে কুকুর আছে না ছাই আছে! সিঁড়ির উপরে এইমাত্র যে পায়ের শব্দ শোনা গেল, কোন কুকুরের পায়ের আওয়াজই সে-রকম হ’তে পারে না! দস্তুরমত মানুষের পায়ের আওয়াজ! কেষ্ট তো ঠিক কথাই বলেছে! কিন্তু কে তার ঘরে লুকিয়ে আছে? কেন লুকিয়ে আছে?