বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আবার পায়ের শব্দ
২৫

সে কি খুনে? চোর? পুলিসের ভয়ে এখানে এসে গা-ঢাকা দিয়েছে? তাই কি ভৈরব মিথ্যা বললে? কিন্তু যে-লোক পলাতক আসামীকে নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখে, তার সঙ্গে তো আর কোন সম্পর্ক রাখাই উচিত নয়। শেষটা কি সেও পুলিস-মাম্‌‌লায় জড়িয়ে পড়বে?

 মনে-মনে ভৈরবকে ‘বয়কট’ করবার প্রতিজ্ঞা ক’রে দিলীপ ‘অ্যানাটমি’র একখানা মস্ত বই টেনে নিয়ে পড়তে বসল। কিন্তু খানিক পরেই আবার পড়ায় বাধা পড়ল।

 পায়ের শব্দে মুখ তুলে দেখে, ঘরের মধ্যে প্রতাপের আবির্ভাব হয়েছে।

 তার পাশে ব’সে প’ড়ে প্রতাপ বললে, “দিলীপ, তুমি একটি আস্ত গ্রন্থকীট! দিন-রাত খালি পড়া আর পড়া আর পড়া! এদিকে পশু আমাদের ‘ইলিয়ট-সিল্ডে’র খেলা সে কথা কি তোমার মনে নেই?”

 —“টিমে কি আমি আছি?”

 —“নিশ্চয়! ‘সিলেক্‌সান’ হয়ে গেছে আজই। তুমি খেলবে রাইট লাইনে। কাল মাঠে গিয়ে ‘প্রাক্‌টিস্’ ক’রে এস।”

 —“যাব। কিন্তু আজ বিদায় হও দেখি, আমাকে পড়তে দাও। আর কোন খবর নেই তো?”

 —“একটা খবর আছে। তোমাকে সেদিন নন্দলাল আর ভৈরবের ঝগড়ার কথা ব’লেছিলুম, মনে আছে তো? কাল নন্দলাল বিষম বিপদে পড়েছিল।”

 —“কি বিপদ?”

 —“নন্দলাল কাল মাঠের রাস্তা দিয়ে সন্ধ্যার সময়ে বাড়ী ফিরছিল, এমন সময়ে হঠাৎ কে তাকে আক্রমণ করে!”