বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
মড়ার মৃত্যু

 —“কে আক্রমণ করে?”

 —“সেইটে বলাই তো মুস্কিল! নন্দগালের মতে, সে মানুষ নয়! অবশ্য তার গলায় নখের আঘাতে যে গভীর ক্ষত হয়েছে, মানুষের নখে সেরকম ক্ষত হওয়া সম্ভবও নয়!”

 —“তবে? তবে কি নন্দলালের ঘাড়ে ভুত চেপেছিল?”

 —“ধুৎ! কে বলছে তা? ভুত-টুৎ কিছু নয়! আমার বিশ্বাস, চিড়িয়াখানা বা কোন খেলাওয়ালার দল থেকে ওরাং-উটান কি শিম্পাজীর মত কোন বড়-জাতের বানর বাইরে বেরিয়ে পড়েছে। এ-কীর্ত্তি তারই! .... নন্দলাল রোজ ঐ পথ দিয়ে ঠিক ঐ সময়েই বাড়ী ফেরে। সেখানে পথের উপরেই একটা ঝাঁকড়া বটগাছ অন্ধকার সৃষ্টি ক'রে ঝুঁকে পড়েছে। নন্দলাল যখন তার তলা দিয়ে আসছিল, ঠিক তখনি সেই অজানা জীবটা হঠাৎ তার ঘাড়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে—নন্দলালের বিশ্বাস সে সেই গাছের ডাল থেকেই তার কাঁধের উপরে অবতীর্ণ হয়েছিল। পিঠের উপরে প'ড়েই জীবটা দুই হাত দিয়ে তার গলা প্রাণপণে চেপে ধরে! নন্দলালের মনে হচ্ছিল কে যেন ইস্পাতের ফিতে দিয়ে তার গলা চেপে ধরেছে! সে কিছুই দেখতে পেলে না; কেবল সেই ভীষণ হাত দু'খানা তার গলার চারিধারে চাপের উপর চাপ দিতে থাকে। প্রাণের ভয়ে সে আকাশ-ফাটানো আর্ত্তনাদ ক'রে ওঠে এবং তার চীৎকার শুনে কোথা থেকে দু'জন লোক ছুটে আসে! তাদের দেখেই সেই জীবটা চিতাবাঘের মত ক্ষিপ্রগতিতে একটা পাঁচিলের উপর লাফ্ মেরে অদৃশ্য হয়ে যায়! নন্দলাল সুধু অনুভব করেছে এক-জোড়া লৌহ-হস্তের মৃত্যু-বাঁধন আর একটা মস্ত-বড় অপচ্ছায়া,—এ-ছাড়া আর কিছুই সে জানে না।”