—“হ’তে পারে। কিন্তু নন্দলাল বলে, তা নয়। তার মতে, যে তাকে আক্রমণ ক'রে গলা টিপে ধ’রেছিল, তার হাতদু’খানা বরফের মত কন্কনে ঠাণ্ডা!—কোন জীবের স্পর্শই সে-রকম শীতল হয় না! নিশ্চয়ই এটা তার মনের ভ্রম, কিন্তু বেচারী ভয়ে একেবারে মুস্ড়ে পড়েছে। ..... হ্যাঁ, ভালো কথা! তোমার বন্ধু ভৈরবচন্দ্র নন্দলালকে যে-রকম ভালোবাসে, বোধ হয় এ-খবরটা শুনলে আনন্দে নৃত্য করতে থাক্বে! আমি তাকে খুব চিনি, সে কোন শত্রুকেই ক্ষমা করে না। অতএব সাবধান, কোনদিন তাকে ঘাঁটিও না!”
দিলীপ বললে, “সে আমার মিত্রও নয়, শত্রুও নয়। তার সঙ্গে আমার সামান্য পরিচয়ই হয়েছে, তাকে আমার ঘাঁটাবার দরকার কি?”
—“তোমার কথা তুমিই বুঝবে, আমি সুধু ব’লে খালাস। কেবল এইটুকু মনে রেখো, তার কাছ থেকে যত তফাতে থাকতে পারো ততই ভালো!” এই ব'লে প্রতাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দিলীপ আবার পড়ায় মন দেবার চেষ্টা করলে। কিন্তু তার মন তখন এমন চঞ্চল হয়ে উঠেছে যে, ডাক্তারি কেতাবের কোন কথাই সে যেন দেখতে পেলে না। থেকে থেকে তার মন কেবলই ছুটে যায় দোতালার ঐ বিচিত্র ঘরের অদ্ভুত লোকটির কাছে—যার চারিদিকেই রয়েছে অজানা রহস্যের এক মায়াময় অপার্থিবতা! তারই ফাঁকে ফাঁকে তার বিস্মিত চিত্ত নন্দলালের উপরে এই আশ্চর্য্য আক্রমণ নিয়ে আলোচনা করবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠল। ঐ ভৈরবের স্বভাব, আর নন্দলালের উপরে এই আক্রমণ—এদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোন যোগাযোগ আছে! কিন্তু কী যে সে যোগাযোগ, ভাষায় স্পষ্ট ক’রে তা প্রকাশ করা যায় না।