পঞ্চম পরিচ্ছেদ
ভৈরবের গুপ্তকথা কি?
দশদিন কেটে গেল।
দিলীপ তার মড়ার কঙ্কাল আর ডাক্তারি কেতাব নিয়ে নিজের বিদ্রোহিতার বিরুদ্ধেই জোর ক'রে এমন ব্যস্ত হয়ে রইল যে, ঘরের বন্ধদরজায় মাঝে মাঝে ভৈরবের করাঘাত শুনেও সাড়া দেবার নামটি করলে না সে এসেই হয়তো সেকেলে মিশর আর তার গুপ্তরহস্য নিয়ে এমন সব আজ্গুবি গালগল্প জুড়ে দেবে যে, শুক্নো ডাক্তারি কেতাবের সমস্ত কথাই ভুলে যেতে হবে!
একদিন সে বাইরে বেরুবার উদ্যোগ করছে, এমন সময়ে তার খোলা দরজা দিয়ে দেখতে পেলে, তার বন্ধু অবনী অত্যন্ত উত্তেজিতভাবে দালানের উপরে নেমে এল এবং তার পিছনে পিছনে ছুটে এল রুদ্র-মূর্ত্তিতে ভৈরবচন্দ্র—ভীষণ ক্রোধে তার মুখ হয়ে উঠেছে হিংস্র জন্তুর মত কদাকার!
ভৈরব সাপের মতন ফোঁস্ ক’রে ব’লে উঠল, “নির্ব্বোধ! এর প্রতিফল পাবি।”
অবনী চেঁচিয়ে বললে, “যা হয়, হবে! কিন্তু তোমার সঙ্গে আজ থেকেই সব সম্পর্ক তুলে দিলুম! আমি আর তোমার কোন কথাই শুনব না!”
—“বেশ, শুনো না! কিন্তু তুমি যা প্রতিজ্ঞা করেছ সেটা মনে রেখ!”