বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২
মড়ার মৃত্যু

দেখেছ আর শুনেছ। কিন্তু সেদিন আমার এত রাগ হয়েছিল যে, তোমার সঙ্গে কথা না কয়েই চ’লে এসেছিলুম। সেজন্যে কিছু মনে কোরো না।”

 —“আমার তো কিছু মনে করবার কোন কারণ নেই।”

 —“বেশ কথা! কিন্তু আমার একটি কথা তুমি রাখো। ভৈরব যে-বাসায় থাকে, সেখানে কোন ভদ্রলোকের থাকা উচিত নয়। ও-বাসা ছেড়ে দাও।”

 —“কেন বল দেখি?”

 অবনী প্রথমটা কোন জবাব দিলে না, দিলীপের সঙ্গে নীরবে খানিকক্ষণ এগিয়ে এল। তারপর বললে, “কেন যে তোমাকে ও-বাসা ছাড়তে বলছি, আমার পক্ষে তার কারণ বলা অসম্ভব। কেন না ভৈরবের কাছে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, কারুর কাছে কোন কথাই আমি বলব না। কিন্তু এইটুকু আমার বলা উচিত যে, ভৈরবের কাছে ভদ্র বা অভদ্র কোন মানুষেরই থাকা নিরাপদ নয়। যে-কোন মুহূর্ত্তে তুমি বিপদে পড়তে পারো—সাংঘাতিক বিপদ!”

 —“বিপদ্? তুমি কী বলছ অবনী?”

 —“স্পষ্ট ক’রে তোমাকে আমি কিছুই বলতে পারব না। কিন্তু ও-বাসা ছেড়ে দাও।”

 —“কেন?”

 —“ভৈরব হচ্ছে অমানুষিক মানুষ, এ ছাড়া তার আর কোন বর্ণনা করা যায় না। সেই যে সেদিন সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, তারপর থেকেই আমার মনে কেমন একটা সন্দেহ হয়। কাল আমি তাই তাকে চেপে ধরেছিলুম। দিলীপ, তখন দায়ে প’ড়ে সে আমাকে যে-সব কথা বললে,