বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪
মড়ার মৃত্যু

শুনে আমার মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল! তার উপরে ভৈরব বলে কিনা আমাকে তার দলভুক্ত হয়ে সাহায্য করতে! ভাগ্যে যথাসময়ে ভৈরবের আসল চরিত্র টের পেয়েছি, তার সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়ে গেলে কি সর্ব্বনাশই না হ’ত! ভগবান রক্ষা করেছেন!”

 —“অবনী, হয় তুমি খুব বেশী বলছ, নয় বলছ খুব কম!”

 —“আমি কিছুই বলব না ব'লে ভৈরবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি।”

 —“তুমি যদি জানতে পারো, কেউ তার প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে চায়, তাহ'লে অঙ্গীকার করেছ ব’লে কি সে-কথা প্রকাশ করবে না? ভৈরবকে আমি ভয় করব কেন?”

 —“কারণ সে হিংস্র পশুর মত ভয়ঙ্কর। হয়তো সে এখনো তোমার কোন অনিষ্ট করে নি, কিন্তু সাপ কখনো কামড়ায় নি ব’লে কে সাপের গর্ত্তের পাশে বাস করতে চায়?”

 —“অবনী, তুমি ভাবছ ভৈরবের গুপ্তকথা আমি জানি না। এটা তোমার ভুল! তুমি তো এই কথাই আমার কাছে প্রকাশ করতে চাওনা যে, ভৈরবের ঘরে আর এক ব্যক্তি বাস করছে?”

 অবনী চলতে চলতে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। মহা বিস্ময়ে দিলীপের মুখের পানে তাকিয়ে বললে, “তুমি তা’হলে সব জানো?”

 গর্ব্বের হাসি হেসে দিলীপ বললে, “হুঁ, তা আর জানি না! ভৈরব কোন ফেরারি আসামীকে তার ঘরে লুকিয়ে রেখেছে, এই তো?”

 অবনীর বিস্মিত ভাবটা মিলিয়ে গেল। সে ঘাড় নেড়ে বললে, “আমি কিছু বলতে পারব না। ভৈরব আমার মুখ বন্ধ ক’রে রেখেছে।”

 দিলীপ বললে, “আমি আর কিছু শুনতেও চাই না। তবে এটা