বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভৈরবের গুপ্তকথা কি?
৩৫

জেনে রাখো, তুমি ভৈরবকে খারাপ লোক বললে ব'লেই বাসা ছেড়ে আমি পালাব না। কেন পালাব? ও বাসা আমার খুব পছন্দসই।”

 অবনীকে পিছনে রেখে দিলীপ ট্রাম-লাইনের দিকে অগ্রসর হ’ল। তার সেই যুক্তিহীন ভয় দেখে দিলীপ মনে মনে কৌতুক অনুভব করলে। মানুষ হিসাবে ভৈরব অমানুষিক হবে কেন? বড়-জোর তার স্বভাবটাই মিষ্ট নয়! হয়তো তার কোন কোন অস্বাভাবিক বাতিক আছে—এমন বাতিক কত লোকেরই তো থাকতে পারে! মানুষের প্রকৃতি হরেক-রকম ব’লেই তো এই পৃথিবী এমন বিচিত্র! হয়তো ভৈরব তার ঘরের মধ্যে কোন খুনী আসামীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেজন্যে বাইরের লোক অকারণে মাথা ঘামিয়ে ভয় পাবে কেন?

 টালিগঞ্জের অমন খাসা বাসা কি ছাড়া যায়? কলকাতায় থেকেও সে কলকাতার বাইরে আছে! জনতার আর ট্রাম-বাস-টাক্সির হট্টগোল নেই, হাজার পাখীর ‘কোরাস’ শুনে তার ঘুন ভাঙে, চারিদিকে তাকিয়েই দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ ভ’রে সবুজ রঙের স্রোত বইছে এবং তার উপরে ঝ’রে পড়ছে নীলাকাশের আলোর ঝরণা! ও বাসা ছাড়া হবে না!