ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
শূন্য ও পূর্ণ কফিন
দিলীপের এক বন্ধু ছিল, মণিলাল। সে বয়সে কিছু ছোট হ'লেও তার সঙ্গে দিলীপের খুব বনিবনাও ছিল।
মণিলাল ধনীর ছেলে এবং দিলীপের মত সেও নির্জ্জনতার ভক্ত। কলেজের পড়া সাঙ্গ ক'রেও সংসারে ঢোকে নি। নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরি ও ফুলের বাগান নিয়েই দিন কাটিয়ে দিত মনের খুসিতে। দিলীপদের বাসা ছাড়িয়ে আরো মাইল দেড়েক এগিয়ে গেলেই তার বাগানঘেরা সুন্দর বাড়ীখানি দেখতে পাওয়া যায়। জায়গাটি অনেকটা পল্লীগ্রামের মত।
হপ্তায় বার-দুয়েক দিলীপ তার এই বন্ধুটির সঙ্গে আলাপ করতে যেত। অবনীর সঙ্গে তার শেষ দেখা হবার পরদিন সন্ধ্যা আটটার সময়ে দিলীপ ঘর থেকে বেরুলো তার বন্ধু মণিলালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। বেরুবার সময়ে টেবিলের দিকে চোখ পড়াতে দেখলে, তার উপরে প'ড়ে রয়েছে ভৈরবের কাছ থেকে চেয়ে আনা একখানি দামী বৈজ্ঞানিক বই।
দিলীপের মনে হ’ল, ভৈরবের সঙ্গে সে আর মেলামেশা করতে চায় না বটে, কিন্তু তার বইখানি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
বইখানি তুলে নিয়ে সে দোতালার সিঁড়ি ধ’রে উপরে উঠল। ভৈরবের দরজার সামনে গিয়ে তার নাম ধ’রে দুবার ডাকলে। সাড়া পেলে