না। দরজাটা ঠেলতেই খুলে গেল। উঁকি মেরে দেখলে, ঘরের ভিতরে ভৈরব নেই। ভাবলে, ভালোই হ’ল, ভৈরবের সঙ্গে আর কথা কইতে হ’ল না, বইখানা ঘরের ভিতরে রেখে চুপিচুপি চ'লে যাই।
সে ঘরের মধ্যে ঢুকল। ল্যাম্পটা কমানো রয়েছে বটে, কিন্তু আব্ছা আলোয় ঘরের সব দেখা যাচ্ছে। সমস্ত ঘরখানার মধ্যে যেন এক অজানা অলৌকিক রহস্য স্তম্ভিত হয়ে আছে, আলোকের অল্পতায় তার ভিতরে এসে দাঁড়ালেই বুকের ভিতরে জেগে ওঠে কেমন একটা অস্বস্তি! দিলীপ এধারে ওধারে চোখ ফিরিয়ে দেখলে, ছাদে সেই ঝুলন্ত কুমীর, দেওয়াল ঘেঁসে সেই পশুমুণ্ডধারী মিশরী দেবদেবীর জটলা এবং মাঝখানে সেই মমির কফিন। ...... কিন্তু, কফিনের মধ্যে বীভৎস মনিটা নেই! ঘরের চারিদিকে তাকিয়েও দিলীপ সেটাকে দেখতে পেলে না। হয়তো তাকে ঘর থেকে বিদায় ক'রে দেওয়া হয়েছে। ভালোই হয়েছে।
দিলীপ নিজের মনেই বললে, “ভৈরবের উপরে আমি বোধহয় অবিচার করেছি। এখানে যদি কোন গুপ্তরহস্য থাকত, তাহলে সে নিশ্চয়ই ঘরের দরজা এমন ক'রে খুলে রেখ যেত না!”
দিলীপ বই রেখে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে আবার সিঁড়ি ব'য়ে নামতে লাগল। সিঁড়িতে আলো ছিল না। ঘুট্ঘুট্ করছে অন্ধকার। সে একদিকের দেওয়াল ধ’রে নামছে, হঠাৎ সিঁড়ির উপরে শোনা গেল একটা অস্পষ্ট শব্দ, একটা আগুনের ফিন্কির আভাস, একটা ঠাণ্ডা-কন্কনে হাওয়ার ঝট্কা-কে যেন তার পাশ কাটিয়ে বেগে উপরে উঠে গেল!
—“কে, ভৈরববাবু নাকি?”
কোন সাড়া নেই—কিন্তু উপরে ঘরের দরজা খোলার শব্দ হ’ল।