বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৮
মড়ার মৃত্যু

 দিলীপের মন কৌতূহলে ভ'রে গেল, সেও তাড়াতাড়ি আবার উপরে উঠল। ভৈরবের ঘরের দরজা তেমনি বন্ধ রয়েছে, ঠেলতেই খুলে গেল।

 ঘরের ভিতরে উঁকি মারতেই সর্বপ্রথমে তার চোখ পড়ল কফিনটার উপরে। তার মধ্যে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই মৃতদেহটা!

 দিলীপ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলে না! আরো দুই পা এগিয়ে গিয়ে ভালো ক'রে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে দেখলে, কফিনের মমি কফিনেই বিরাজ করছে!

 কিন্তু তিন মিনিট আগেই কফিনের ভিতরে যে কিছুই ছিল না, দিলীপ শপথ ক’রে তা বলতে পারে! চোখের ভ্রম? এও কি সম্ভব? সে আড়ষ্ট চক্ষে সেই বিভীষণ সুদীর্ঘ মৃত মূর্ত্তির পানে তাকিয়ে রইল এবং তার মনে হ’ল, মমির কোটরগত চোখদুটো যেন জ্যান্তো চোখের মত একবার চক্-চক্‌ ক'রে উঠল!

 দিলীপের হতভম্ব ভাবটা তখনো কাটেনি, হঠাৎ নীচে থেকে প্রতাপে ব্যস্ত চীৎকার শোনা গেল—“দিলীপ! দিলীপ! কোথায় তুমি? শীগ্‌‌গির এস!”

 দিলীপ দ্রুতপদে নেমে গিয়ে দেখলে, তার ঘরের সামনে কাতর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রতাপ!

 —“কি হে, ব্যাপার কি?”

 —“অবনী হঠাৎ জলে ডুবে গেছে! ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না, আপাতত তুমি হ’লেই চলবে! তাকে জল থেকে তোলা হয়েছে, দেহে এখনো প্রাণ আছে। দেরি কোরো না, শীগ্‌‌গির চল!”

 দুজনে তাড়াতাড়ি বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়ল এবং শীঘ্র অবনীর বাড়ীতে পৌঁছবে ব'লে দৌড়তে আরম্ভ করলে।