বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪০
মড়ার মৃত্যু

 অবনীদের বৈঠকখানায় ঢুকে দেখা গেল, চৌকির উপরে তার জলসিক্ত অচেতন দেহকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে।

 দিলীপ প্রভৃতির চেষ্টায় প্রায় কুড়ি মিনিট পরে অবনীর দেহে একবার শিহরণ দেখা গেল, তারপর তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল, তারপর সে চোখ খুললে।

 প্রতাপ বললে, “এইবারে জেগে ওঠ ভাই, জেগে ওঠ! তুমি আমাদের যথেষ্ট ভয় দেখিয়েছ!”

 দিলীপ বললে, “আমার ডাক্তারি ব্যাগ থেকে খানিকটা ব্রাণ্ডি বার ক’রে ওকে খাইয়ে দাও।”

 অবনীর এক সহপাঠী সেখানে ছিল। সে বললে, “কী ভয়ই আমি পেয়েছিলুম! মাঠে ব’সে চাঁদের আলোয় আমার সঙ্গে গল্প করতে করতে অবনী হঠাৎ উঠে একটা পুকুর-ধারে গেল। মাঝখানে কতকগুলো গাছ থাকাতে আমি তাকে দেখতে পাচ্ছিলুম না। আচম্‌‌কা শুনলুন, তার আর্ত্তনাদ আর ঝপাং করে জলে পড়ার শব্দ! তারপর ছুটে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপিয়ে কী কষ্টে যে তাকে ডাঙায় তুলেছি, তা খালি আমিই জানি। আমি তো ভেবেছিলুম, অবনী আর বেঁচে নেই!”

 ইতিমধ্যে অবনী কতকটা সামলে নিয়েছে। সে দুইহাতে ভর দিয়ে উঠে বসল এবং তার মুখে-চোখে ফুটে উঠল দারুণ ভয়ের চিহ্ন!

 দিলীপ বললে, “কি ক’রে তুমি জলে প’ড়ে গেলে?”

 —“আমি প’ড়ে যাইনি।”

 —“তবে?”

 —“কে আমাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে।”