বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শূন্য ও পূর্ণ কফিন
৪১

 —“সে কি হে?”

 —“হ্যাঁ। পুকুর-ধারে দাঁড়িয়েছিলুম, হঠাৎ কে আমাকে দুখানা বরফের মত ঠাণ্ডা হাতে হাল্‌কা পালোকের মত শূন্যে তুলে ধ’রে জলে ছুঁড়ে ফেলে দিলে!”

 —“কে সে?”

 —“আমি কিছুই দেখিনি, কিছুই শুনিনি। কিন্তু সে যে কে, আমি তা জানি।”

 খুব মৃদুস্বরে দিলীপ বললে, “আমিও জানি।”

 অবনী সবিস্ময়ে বললে, “তাহ’লে তুমি জেনেছ? মনে আছে, আমি তোমাকে কি অনুরোধ ক’রেছিলুম?”

 —“মনে আছে। এইবারে বোধ হয় আমি তোমার অনুরোধ রক্ষা করব।”

 প্রতাপ বিরক্ত কণ্ঠে বললে, “তোমরা কি গুজ্‌‌গুজ্ ফুস্‌‌ফুস্ সুরু করলে হে? অবনী এখন বিশ্রাম করুক, এখন আর কোন কথা নয়। এস হে, আমরা বিদায় হই।”

 বাসার দিকে ফিরতে ফিরতে দিলীপের কত কথাই মনে হ'তে লাগল। —মমি-শূন্য কফিন, সিঁড়ির উপরে শব্দ ও কনকনে হাওয়া, তারপরেই কফিনের মধ্যে হারা মমির রহস্যপূর্ণ অসম্ভব পুনরাবির্ভাব এবং তারপর অবনীর উপরে এই অকারণ আক্রমণ! এর আগেই নন্দলালও ঠিক এই ভাবেই আক্রান্ত হয়েছিল এবং এদের দুজনেরই উপরে ভৈরব তুষ্ট নয়! এই সঙ্গে ভৈরবের ঘরের অসাধারণ ব্যাপারগুলোও স্মরণ হ’তে লাগল। এই সমস্ত ঘটনা একত্রে নাড়াচাড়া করতে করতে দিলীপের মনের ভিতরে একটা