সম্পূর্ণ নাটক গ’ড়ে উঠল! এ-সবকে মিথ্যা বলা অসম্ভব, কিন্তু পৃথিবীর চক্ষে এদের সত্যতা প্রমাণিত করাও কতটা কঠিন! পৃথিবী বলবে—দিলীপ, তুমি ভুল দেখেছ, কফিন এক-মুহূর্ত্তও মমি-শূন্য হয়নি, আরো অনেকের মত অবনীও হঠাৎ জলে ডুবে গেছে, ভেবে ভেবে তোমার মাথা খারাপ হ’য়ে গিয়েছে, তুমি কোন ভালো ডাক্তারের ঔষধ খাও! ......দিলীপ নিজেও নিশ্চয় এ-রকম গল্প শুনলে এই কথাই বলত! কিন্তু তবু সে এখন স্পষ্ট ভাষায় বলতে পারে যে, ভৈরবের মন হচ্ছে হত্যাকারীর মন এবং সে এমন এক অশ্রুতপূর্ব্ব ভয়াবহ অস্ত্রের দ্বারা নরহত্যা করতে চায়, পৃথিবীর অপরাধের ইতিহাসে আর কেউ কখনো যা ব্যবহার করতে পারেনি!
দিলীপ স্থির করলে, হপ্তাখানেকের মধ্যেই কোন নতুন বাসায় উঠে যাবে! এ বাসায় থাকলে তার পড়াশোনা আর হবে না, দোতালার ঘরের রহস্য নিয়েই মন ব্যস্ত হ’য়ে থাকবে!
সে বাসার কাছে এসে পড়ল। দোতালার ঘরে তখনো আলো জ্বলছে এবং বাইরের দিকে তাকিয়ে জান্লার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভৈরব!
বাড়ীর ভিতরে ঢুকে দিলীপ দেখলে, ভৈরব সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসছে।
ভৈরব বললে, “দিলীপবাবু, নমস্কার। আপনার সঙ্গে দু-একটা কথা বলতে চাই। এখন কি আপনার সময় হবে?”
দিলীপ ক্রুদ্ধস্বরে বললে, “না!”
— “সময় হবে না? লেখাপড়া নিয়ে আপনি এতই ব্যস্ত? আমি অবনীর কথাই বলতুম। শুনছি তার নাকি কি বিপদ হয়েছে?” ভৈরবের