মুখ গম্ভীর, কিন্তু তার চোখে যেন আনন্দের আভাস!—দিলীপের ইচ্ছা হ’ল, মারে তার মুখে এক ঘুসো!
সে বললে, “ভৈরববাবু, শুনে আপনি বড়ই দুঃখিত হবেন যে, অবনী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে! আপনার সয়তানি কৌশল এবার কাজে লাগেনি! বেহায়ার মত কিছু উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করবেন না, আমি সব জেনে ফেলেছি!”
ক্ষাপ্পা দিলীপের রুক্ষ কথা শুনে ভৈরব প্রথমটা থতমত খেয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল। তারপর বললে, “আপনি পাগল হয়ে গেছেন দিলীপবাবু। কী আপনি বলতে চান? অবনীর দুর্ঘটনার জন্যে আমি দায়ী?”
বজ্রনাদে দিলীপ বললে, “হ্যাঁ! দায়ী আপনি, আর আপনার ঐ শুক্নো মড়া! ভৈরববাবু, সেকাল হ’লে আপনাকে হয়তো জীবন্তে পুড়িয়ে মারা হ’ত, কিন্তু ভুলে যাবেন না, একালেও ফাঁসিকাঠ আছে! এই টালিগঞ্জে যদি আর কোন লোক এইভাবে আক্রান্ত হ'য়ে প্রাণ হারায়, তাহ'লে আমিই আপনাকে পুলিসের হাতে সমর্পণ করব! মিশরী মড়ার খেলা বাংলাদেশে চলবে না,—বুঝেছেন?”
—“আপনাকে শীঘ্রই পাগ্লা গারদে পাঠাতে হবে দেখছি।”
—“আচ্ছা! দেখা যাবে, আমিই পাগ্লা গারদে যাই, না আপনিই ফাঁসিকাঠে দোল খান্!”—ব’লেই দিলীপ নিজের ঘরে ঢুকে দোর বন্ধ ক’রে দিলে।