বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ

চলন্ত মৃতদেহ

 পরদিন সন্ধ্যায় দিলীপ স্থির করলে, আজ মণিলালের সঙ্গে দেখা করতে যাবে।

 পথে বেরিয়ে পিছন ফিরে দেখলে, উপরের আলোকিত ঘরের জান্‌‌লায় ভৈরব আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে মূর্ত্তির মত। সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বোধ হয় তাকেই দেখছিল!

 তার পাপ-সংসর্গ থেকে তফাতে এসে দিলীপ একটা আশ্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচলে।

 দূরে তালকুঞ্জের মাথার উপর থেকে চাঁদ যেন সকৌতুকে পৃথিবীকে নিরীক্ষণ করছে এবং হাল্‌কা বাতাসে ভেসে আসছে শান্ত সন্ধ্যার একটি স্নিগ্ধ গন্ধ। জ্যোৎস্নায় স্বপ্নময় নীলসাগরে যেন কোন্ পরীপুরীর উদ্দেশে চলেছে ছোট ছোট মেঘের তরণী। দুইপাশে মাঠের জনশূন্য উন্মুক্ততা নিয়ে এগিয়ে চলল দিলীপ, মনের আনন্দে।

 তখন জনমানবের সাড়া নেই। প্রায় আধঘণ্টা পরে দেখা গেল, খানিক তফাতে মণিলালের বাড়ীর জান্‌‌লাগুলো আলোকে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

 হঠাৎ দিলীপের কি মনে হ'ল, একবার ফিরে পিছনপানে তাকিয়ে দেখলে। চাঁদের কিরণে ধব্‌‌ধবে পথটি একটি চওড়া শুভ্র-রেখার মত অনেক দূরে অস্পষ্টতার মধ্যে গেছে হারিয়ে। কিন্তু তারই উপর দিয়ে অভিশপ্ত অপচ্ছায়ার মত কি-একটা দ্রুতবেগে এগিয়ে আর এগিয়ে আসছে!