বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চলন্ত মৃতদেহ
৪৫

 দিলীপের বুক ছাঁৎ ক'রে উঠল। কী ও? মানুষ? কী লম্বা ওর কালো দেহ, শুভ্র পথের জ্যোৎস্নাকেও ও যে কলঙ্কিত ক’রে তুলেছে! ওর চোখদুটো যেন দপ্‌‌দপ্ করছে, প্রত্যেক পদক্ষেপের তালে তালে হাড়গুলো বেজে উঠছে খড়্‌‌মড়্ ক’রে, যেন ওর সারা দেহের সঙ্গেই মাংসের সম্পর্ক নেই! কী অস্বাভাবিক ওর গলা—যেন একটা বাঁখারির উপরে বসানো আছে মুণ্ডুটা! ভয়াবহ সাক্ষাৎ-মৃত্যুর মূর্ত্তি ঝড়ের মত ছুটে আসছে শিকারের দিকে!

 দিলীপ আর দাঁড়ালে না, মণিলালের বাড়ীর দিকে প্রাণপণে ছুটতে লাগল—কণ্ঠে তার আর্ত্ত চীৎকার! পিছনে মৃত্যু-পিশাচ, সামনে আলোকোজ্জ্বল জীবনময় অট্টালিকা, ওদিকে নরক, এদিকে স্বর্গ, কিন্তু মাঝখানে এখনো রয়েছে বিপদজনক ব্যবধান! এই পথটুকু আজ কী লম্বাই মনে হচ্ছে, আজ যেন আর পথের শেষ আসবে না!

 কিন্তু পথের শেষ এল—জীবন্ত মৃত্যু তখন তার কাছ থেকে মাত্র দশহাত দূরে, জ্বলন্ত চক্ষে দুখানা অস্থিসার দীর্ঘ বাহু বাড়িয়ে সে দিলীপকে ধরবার জন্যে প্রস্তুত হয়েছে!

 একটানে বাগানের ফটক খুলে দিলীপ আবার ছুটল, বাড়ীর দরজা সেখান থেকেও খানিকটা দুরে!

 সভয়ে শুনলে, বিভীষিকা তখনও তার পিছু ছাড়েনি—সেও সশব্দে ফটকটা খুলে ফেললে এবং পিছনে, অতি-নিকটে তার কঠিন পায়ের শব্দ।

 দেহের শেষ শক্তিটুকু প্রয়োগ ক’রে দিলীপ ভার দ্রুতগতিকে দ্বিগুণ দ্রুত ক’রে তুললে এবং কোনরকমে বাড়ীর ভিতরে ঢুকে প’ড়ে বিকট স্বরে চেঁচিয়ে দরজাটা বন্ধ ক’রে খিল তুলে দিলে!