কোথা থেকে ছুটে এসে মণিলাল বললে, “কি আশ্চর্য্য! দিলীপ—দিলীপ, ব্যাপার কি?”
দরজার উপরে পিঠ রেখে দাঁড়িয়ে দিলীপ অতি ক্ষীণস্বরে বললে, “আগে এক গেলাস জল!”
মণিলাল দৌড়ে গিয়ে যখন এক গেলাস জল নিয়ে ফিরে এল, দিলীপ তখন একান্ত অবসন্নের মত একখানা চেয়ারের উপরে ব’সে প’ড়ে হাঁপ্ সাম্লাবার চেষ্টা করছে!
—“এই নাও জল! বন্ধু, তোমার এ কী মূর্ত্তি, মুখ যে একেবারে কাগজের মত সাদা হয়ে গেছে!”
দিলীপ সাগ্রহে হাত বাড়িয়ে তার তপ্ত পাথরের মতন শুক্নো গলাটা ভিজিয়ে নিলে। তারপর খানিকক্ষণ চুপ ক’রে থাকবার পর বললে, “মণিলাল, সব কথা পরে বলছি। আপাতত শুনে রাখো, আজ রাত্রে তোমার বাড়ীই হবে আমার শয়ন-মন্দির। কাল সকালে আবার সূর্য্যোদয় না হ’লে আমি আর এ-বাড়ীর বাইরে যেতে পারব না!”
দিলীপের মুখের দিকে তাকিয়ে মণিলাল বললে, “তুমি যা বলবে, তাই হবে। আমি তোমার জন্যে ব্যবস্থা করতে বলছি। ওকি, উঠে আবার কোথায় যাচ্ছ?”
—“দোতালার বারান্দায়। সেখান থেকে চারিদিকের সব দেখা যায়। তুমিও আমার সঙ্গে এস। আমি যা দেখেছি তুমিও তা নিজের চোখে দেখলে ভালো হয়।”
দোতালার বারান্দায় বেরিয়ে চোখে পড়ল চারিদিকেই চন্দ্রালোকের রাজ্য—যার প্রজা হচ্ছে গাছপালা লতা-পাতা ফুল-ফল!