দিলীপ প্রথমে বারান্দা থেকে ঝুঁকে প'ড়ে বাগানের যতখানি দেখা যায় তার উপরে চোখ বুলিয়ে নিলে। সেখানে দখিনা বাতাসে কেবল ছোটবড় ফুলগাছেরা দুলে দুলে চন্দ্রলেখার স্বপ্ন দেখছে।
তারপর সে মাঠের পর মাঠের দিকে এবং সুদীর্ঘ সাদা ফিতার মত মেঠো পথের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলে। সেখানেও জনহীন পূর্ণশান্তির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে সুমধুর জ্যোৎস্না! কাছে বা দূরে জীবন্ত কোন প্রাণীর ছায়া পর্য্যন্ত দেখা গেল না।
মণিলাল বললে, “দিলীপ! তুমি কি সিদ্ধি খেয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছ? এখানে এসে কাকে তুমি খুঁজতে চাও?”
—“সে কথা তোমাকে বলছি।......কিন্তু, কোথায় সে গেল, কোথায় লুকোলো? .....হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঐ দেখ মণিলাল, ঐ দেখ! পথটা যেখানে মোড় ফিরেছে, ঐখানে তাকিয়ে দেখ”—ব’লেই সে উত্তেজিত ভাবে মণিলালের বাহু সজোরে চেপে ধরলে!
মণিলাল বললে, “হ্যাঁ, আমি দেখতে পাচ্ছি! আমাকে দেখাবার জন্যে এত জোরে আমার হাত চেপে ধরবার দরকার নেই! হ্যাঁ, ওখান দিয়ে কেউ যাচ্ছে বটে! কোন মানুষ, দেখলে মনে হয়—সে রোগা, কিন্তু ঢ্যাঙা—খুব ঢ্যাঙা! বেশ তো, পথ দিয়ে মানুষ যাচ্ছে—আর মানুষরা চিরকালই পথ দিয়ে চলে, কিন্তু সেজন্যে তোমার এত-বেশী ভয় পাবার কারণ কি?”
—“কারণ কিছুই নেই, তবে ঐ মূর্ত্তিটাই আমাকে ধরবার জন্যে পিছনে তাড়া করেছিল। আচ্ছা, তোমার বৈঠকখানায় চল, সব কথা সবিস্তারে বর্ণনা করছি!”
দুজনে আবার নেমে বৈঠকখানায় এসে বসল। প্রচুর আলোকে