বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চলন্ত মৃতদেহ
৪৯

আনন্দময় সেই সাজানো ঘরের একখানা কৌচের উপরে ব’সে দিলীপ একেবারে গোড়া থেকে শুরু ক’রে শেষ পর্য্যন্ত সমস্ত ঘটনা একে একে মণিলালের কাছে বর্ণনা ক'রে গেল—ছোটখাট খুটিনাটিটি পর্য্যন্ত বাদ দিলে না।

 কাহিনী সাঙ্গ ক'রে সে বললে, “মণিলাল, এই হচ্ছে আমার অভিশপ্ত অভিজ্ঞতার ইতিহাস। এ কাহিনী অসম্ভব বটে, কিন্তু এর প্রত্যেক বর্ণ ই সত্য!”

 মণিলাল বেশ খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল, তার মুখের উপরে একটা হতভম্ব ভাব!

 তারপর সে ধীরে ধীরে বললে, “আমার জীবনে এমন গল্প কখনো শুনিনি! তুমি সমস্ত বিষয় বর্ণনা করলে বটে, কিন্তু তুমি নিজে কি সিদ্ধান্তে উপস্থিত হয়েছ বল দেখি?”

 —“তোমার নিজের মত কি?”

 —“তার আগে তোমার মত শুনতে চাই। এ-বিষয় নিয়ে তুমি ভাববার সময় পেয়েছ, আমি পাইনি।”

 —“আসল ব্যাপার আমার যা মনে হয়, তা হচ্ছে এই। ঐ সয়তান ভৈরব মিশরে গিয়ে এমন কোন গুপ্তমন্ত্র শিখে এসেছে, যার গুণে মমিকে —অর্থাৎ হাজার হাজার বছর আগেকার মড়াকে -অথবা একটা বিশেষ মড়াকে অন্তত খানিকক্ষণের জন্যে জ্যান্তো ক’রে তুলতে পারা যায়। যেদিন সে প্রথম অজ্ঞান হ'য়ে যায়, সেদিন সম্ভবত মড়াটাকে সর্ব্বপ্রথম জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল। কিন্তু একটা পুরাণো শুকনো মড়া জীবন্ত হয়ে উঠছে, এই অনভ্যস্ত অসম্ভব দৃশ্য দেখেই যে সে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল, তাতে

8