আর কোনই সন্দেহ নেই। তারপরে জীবন্ত মড়ার নড়াচড়া দেখতে সে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। যদিও মমির সেই জীবন নিশ্চয়ই দীর্ঘস্থায়ী নয়। কারণ আমি তাকে দিনের পর দিন সম্পূর্ণ জড়পদার্থের মত কফিনের ভিতরে থাকতে দেখেছি। কিন্তু এক অপার্থিব অদ্ভুত শক্তির অধিকারী হয়ে ভৈরব বুঝলে যে, মড়ার সাহায্যেও সে মনের মত কার্য্য সফল করতে পারে। কারণ এটা হচ্ছে মানুষের মড়া, অতএব জ্যান্তো হ'লে তার মানুষী বুদ্ধি আর শক্তিও ফিরিয়ে পায়। নন্দলালের উপরে ভৈরবের রাগ ছিল, তার উপরেই সে প্রথম পরীক্ষা করলে। তারপর এই নূতন ক্ষমতা পেয়ে আনন্দে অধীর হয়ে সে অবনীকেও নিজের দলে টানবার চেষ্টা করলে। কিন্তু অবনী হচ্ছে ভিন্ন ধাতুতে গড়া। এ-সব অন্যায় ভুতুড়ে ব্যাপারে সে যোগ দিতে চাইলে না। ভৈরবের সঙ্গে তার ঝগড়া বাধ্ল। এমন লোকের হাতে সে নিজের বোনকে সমর্পণ করতে নারাজ হ’ল, আর তার ফলে সেও পড়ল ভৈরবের হুকুমে এই জ্যান্তো মড়ার হাতে। কিন্তু আগে নন্দলাল, তারপরে অবনী যে প্রাণে প্রাণে কোনরকমে রেহাই পেলে, সেটা হচ্ছে দৈবের মহিমা! নইলে ভৈরবের উপরে আজ দু-দুটো নরহত্যার চাপ পড়ত। তারপর সে যখন টের পেলে যে, আমিও তার গুপ্তকথা জেনে ফেলেছি, তখন আমাকেও তার পথ থেকে সরিয়ে নিশ্চিন্ত হ'তে চাইলে! আমি যে এখানে আসব সে তা জানত। দিলে তার মমিকে লেলিয়ে! কিন্তু ভাগ্য আমার প্রতি সুপ্রসন্ন, নইলে কাল সকালেই তোমার বাগানের ভিতরে দেখতে পেতে আমার মৃতদেহ! আমি ভীতু লোক নই, কিন্তু এ-রকম মৃত্যু-ভয় অতি-বড় সাহসীও সহ্য করতে পারে না!”
মণিলাল অবিশ্বাসের হাসি হাসতে হাসতে বললে, “বন্ধু, অতিরিক্ত