বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চলন্ত মৃতদেহ
৫১

লেখাপড়া ক'রে ক'রে তোমার মাথার গোলমাল হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর কলকাতায় চার হাজার বছরের পুরাণো মিশরের জ্যান্তো মমি! সব চেয়ে কড়া গাঁজার ধোঁয়াও এর কাছে হার মানে! এই মমিকে খালি তুমিই দেখেছ, আর কেউ একে জ্যান্তো অবস্থায় দেখেনি!”

 —“নিশ্চয়ই আরো কেউ কেউ দেখেছে। কারণ এ অঞ্চলের অনেকেই বলছে যে, বানর-জাতীয় কোন জীব যেখানে সেখানে মানুষের উপরে অত্যাচার করছে! তা ছাড়া তারা আর কি বলবে? আসল ব্যাপারটা যে কল্পনা করাও অসম্ভব!”

 —“কল্পনার দরকার কি? আসল ব্যাপার তো বেশ বোঝা যাচ্ছে।”

 —“কী বোঝা যাচ্ছে?”

 —“প্রথমত ধর, তুমি বলছ শূন্য কফিনকেও হঠাৎ পূর্ণ হ'তে দেখেছ! তুমি ভুলে যাচ্ছ, ভৈরবের ঘরের আলো কমানো ছিল। সেই ম্লান আলোতে প্রথমটা তোমার ভালো ক'রে তাকাবার দরকার হয় নি, তাই তুমি চোখের ভ্রমে মমিটাকে দেখতে পাওনি!”

 —“না, না মণিলাল! এ হ'তে পারে না।”

 —“হ’তে পারে না কি, তাইই হয়েছে। তারপর আমার বিশ্বাস, এ-অঞ্চলে হঠাৎ কোন গুণ্ডা এসে লীলা-খেলা সুরু করেছে। নন্দলালের উপরে সেইই আক্রমণ করেছে, তোমাকে একলা পেয়ে সেইই তেড়ে এসেছে, আর অবনী জলের ভিতরে নিজেই প'ড়ে গেছে দৈবগতিকে। এ-সবের জন্যে ভৈরবকে দায়ী কোরোনা, কারণ তোমার এ উদ্ভট মত ধোপে টিকবে না! তাকে জোর করে আদালতে হাজির করলেও আইন তোমার একটা কথাও বিশ্বাস করবে না।”