দিলীপ গম্ভীর স্বরে বললে, “আমি তা জানি। তাই আইনের আশ্রয় না নিয়ে আমি নিজের শক্তির উপরেই নির্ভর করতে চাই।”
—“তার মানে?”
—“আমি কলকাতাকে এক অদ্ভুত বিপদ থেকে রক্ষা করতে চাই। কেবল তাই নয়, সব-চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমি নিজে আত্মরক্ষা করতে চাই। আমার কর্ত্তব্য আমি স্থির করেছি। এখন ঘণ্টাখানেক আমাকে একলা থাকতে দাও। আমাকে একটা কলম আর একখানা কাগজের ‘প্যাড্’ দিতে পারবে?”
—“নিশ্চয়ই। ঐ কোণের টেবিলের ধারে গিয়ে বসলেই তুমি যা চাও তাই পাবে।”
দিলীপ টেবিলের ধারে গিয়ে বসল। তারপর কাগজ-কলম নিয়ে কি লিখতে লাগল। একঘণ্টার পর দুই ঘণ্টার আগে তার লেখা শেষ হ’ল না। ততক্ষণ ধ'রে মণিলাল একখানা সোফায় ব’সে বই পড়তে ও মাঝে মাঝে দিলীপের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল।
তারপর দিলীপ এক তাড়া কাগজ নিয়ে উঠে এসে মণিলালের সামনে দাঁড়িয়ে বললে, “এখন তুমি সাক্ষী হও। এই কাগজের তলায় একটা সই ক’রে দাও।”
—“সাক্ষী হব? কিসের সাক্ষী?”
—“এটা যে আজকের তারিখে আমি সই করেছি, তারই সাক্ষী হবে তুমি। বন্ধু, এরই ওপরে আমার জীবন নির্ভর করছে!”
—“দিলীপ, তুমি পাগলের মত কথা কইছ। চল, খেয়ে-দেয়ে শোবে চল।”