বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ

অপূর্ব্ব শবদাহ

 দিলীপকে যারা চেনে তারা জানে যে, শত্রু হিসাবে সে বড় সহজ মানুষ নয়। যেমন মন দিয়ে সে লেখাপড়া করত, তেমনি ভাবে দেহ-মন একাগ্র ক'রেই লোকের সঙ্গে বন্ধুতা বা শত্রুতা করতে পারত। এই ছিল তার স্বভাব। অর্দ্ধসমাপ্ত ক’রে কোন কিছুই সে ফেলে রাখতে পারত না ।

 সে যে কি করবে সে-কথা কিছুতেই মণিলালের কাছে ভাঙলে না। কিন্তু পরদিন প্রভাতে পূর্ব্ব-আকাশে রঙের খেলা সুরু হবার আগেই দিলীপ বিছানা ছেড়ে জামা-কাপড় প'রে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ল।

 এই তো সেই চির-পরিচিত বিহঙ্গ-কলরোলে ও তরু-মর্ম্মরে সঙ্গীতময় পথ আর মাঠ, কিন্তু অবর্ণনীয় বিভীষিকার চলন্ত ছায়াকে বুকে ক’রে রাতে ওরাই কি ভয়ানক হয়ে উঠেছিল!

 রাতের অন্ধকার ও অস্পষ্টতা এসে পথ-ঘাটে যে-কোন বিভীষিকার জন্যে জমি তৈরি ক'রে রাখে। তাই হঠাৎ কোথাও একটা গাছের ডাল নড়লে বা প্যাঁচা ডেকে উঠলে বা বাদুড় ডানা ঝট্‌পট্ করলে মানুষের বুকও ছম্‌ছম্ করতে থাকে! কিন্তু দিনের বেলায় সুস্পষ্ট সূর্যালোক কাপুরুষকেও সাহসী ক'রে তোলে। সেই সৃষ্টিছাড়া মূর্ত্তিটা আজ যদি এখন এই মেঠো পথে এসে দাঁড়ায়, দিলীপ নিশ্চয়ই তাহ’লে কালকের মত ভয়ে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ওঠে না!

 এম্‌‌নি সব ভাবতে ভাবতে দিলীপ কাঁচা রোদের সোনা-মাখা পথের উপর দিয়ে এগিয়ে চলল।