বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অপূর্ব্ব শবদাহ
৫৫

 প্রথমে প্রতাপের বাড়ীতে গিয়ে হাজির হ'ল। প্রতাপ তখন সবে উঠে মুখ-হাত ধুয়ে প্রভাতী চায়ের সঙ্গে খবরের কাগজ নিয়ে বসেছে।

 দিলীপকে এত ভোরে দেখে বিস্মিত হ'য়ে বললে, “তুমি যে এখন? চা আনতে বলি?”

 —“না, ধন্যবাদ! প্রতাপ, তুমি এখনি আমার সঙ্গে আসতে পারবে?”

 —“কেন পারব না?”

 —“আমি যা বলব, করবে?”

 —“নিশ্চয়!”

 —“তোমাদের বন্দুক আছে না?”

 —“আছে। কিন্তু বন্দুক কি হবে?”

 —“সেটা সঙ্গে ক'রে নিয়ে এস। আর এক গাছা খুব মোটা লাঠি!”

 —“বাঘ মারা যায় এমন লাঠি তোমায় দিতে পারি। কিন্তু এত অস্ত্রশস্ত্র কেন? যুদ্ধযাত্রা করবে নাকি?”

 —“দেওয়ালের উপরে ঐ যে বড় রাম-দা-খানা টাঙানো রয়েছে, ওখানাও চাই।”

 —“এ যে কুরুক্ষেত্রের আয়োজন! আর কিছু চাই? কামান-টামান?”

 —“আপাতত দরকার হবে না। তোমাকেও দরকার হ'ত না, কিন্তু পাছে একজনের বেশী লোক আমাকে আক্রমণ করে, সেই ভয়েই তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কেউ শিশু নই, কেউ আক্রমণ করলে নিশ্চয়ই লড়াই করতে পারব, কি বল?”

 —“পারা তো উচিত! কিন্তু এখন বীর-দর্পে কোন্ দিকে যাত্রা করতে হবে, বল? ফোর্ট-উইলিয়মের দিকে?”