বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৬
মড়ার মৃত্যু

 —“না। আমার বাসার দিকে!”

 —“তোমার বাসার দিকে?”

 —“অর্থাৎ ভৈরবের বাসার দিকে!”

 —“কিন্তু সে জন্যে এমন সমর-সজ্জার প্রয়োজন কি? ভৈরবকে যদি বধ করতে চাও, একটা ঘুসি বা চড় বা লাথিই যথেষ্ট!”

 —“না প্রতাপ, না! ভৈরব একলা নেই!”

 —“তাহ’লে সেও কি সৈন্য সংগ্রহ করেছে?”

 —“এ-সব প্রশ্নের জবাব পরে দেব। এখন যা বলি, শোনো। বন্দুক আর রাম-দা নিয়ে আমি ভৈরবের ঘরে ঢুকব। ঐ মোটা লাঠি কাঁধে ক'রে তুমি দরজার বাইরে অপেক্ষা করবে। যদি আমার দরকার হয়, তোমাকে আমি ডাকব। তখন তুমি লাঠি চালিয়ে শত্রু মারতে একটুও ইতস্তত কোরো না। এখন চল!”

 —“যো হুকুম, জেনারেল! তাহ'লে এই আমি ‘কুইক্‌-মার্চ্’ সুরু করলুম!”

 ভৈরব টেবিলের সামনে ব’সে একমনে কি লিখছিল। দরজা খোলার শব্দে মুখ তুলে দেখলে, দিলীপ ঘরে ঢুকে আবার দরজা ভেজিয়ে দিলে—তার পিঠে বাঁধা বন্দুক, হাতে রাম-দা!

 প্রথমটা সে হতভম্বের মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তারপর বিষম রাগে তার কপালের শিরগুলো ফুলে উঠল।

 দিলীপ কফিনটার দিকে তাকিয়ে দেখলে, নিসাড় মৃত্যুর আড়ষ্টতা নিয়ে প্রাচীন মিসরবাসী সেই সুদীর্ঘ মানবের মৃতদেহটা কফিনের ভিতরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার কোটরগত চক্ষে আজ জাগ্রত দৃষ্টির এতটুকু আভাস