বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অপূর্ব্ব শবদাহ
৫৭

নেই, তার মাংসহীন বিবর্ণ চামড়া-ঢাকা অস্থিসার দেহের উপরে শত শত শতাব্দীর কুৎসিত জীর্ণতা মাখানো, লম্বা হাত দুখানা অনাবশ্যক উপসর্গের মত একান্ত অসহায় ভাবে দেহের দুইদিকে ঝুলছে—যদিও তার কাঁক্‌‌ড়ার দাড়ার মত বাঁকানো নিষ্ঠুর হাতের আঙুলগুলো দেখলে মন যেন দ’মে যায়। কিন্তু চার হাজার বছরের ঐ পুরাণো শুঁট্‌‌কো মড়া যে আবার ঐ কফিন ছেড়ে পৃথিবীর সবুজ মাটির উপরে পদচালনা করতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা শুনলে পাগলও বোধহয় অবিশ্বাসের হাসি হেসে উঠবে!

 দিলীপ রীতিমত গদিয়ানি চালে একখানা চেয়ার টেনে নিয়ে ব’সে প’ড়ে যেন নিজের মনেই বললে, “দেখছি ধুনুচীতে আজ ধুনোও পুড়ছে না, পাপিরাস-পুঁথির মন্ত্রও কেউ পড়ছে না, জন্তুমুখো দেবতাদের পূজোর আয়োজন নেই, মমিরও ঘুম এখনো ভাঙে নি!”

 ঠোঁঠ ফাক্ ক'রে হিংস্র দাঁতগুলো দেখিয়ে ভৈরব বললে, “দিলীপবাবুর বোধহয় ভ্রম হয়েছে। এটা তাঁর নিজের ঘর নয়!”

 দিলীপ বললে, “দিলীপবাবুর ভ্রম হয় নি! তিনি সে একটা হত্যাকারীর আস্তানায় এসেছেন, এ জ্ঞান তাঁর আছে।”

 ভৈরব বললে, “আমি যদি এখন ফোন্ ক'রে পুলিস ডাকি, তাহ’লে ঘরে ঢুকে কী দেখবে তারা? শান্তিপ্রিয় গোবেচারা ভৈরবের হাতে রয়েছে মাত্র একটি ফাউণ্টেন পেন আর মহাবীর দিলীপবাবুর পৃষ্ঠদেশে বাঁধা দোনলা বন্দুক আর হাতে চক্‌চক্‌ করছে মস্ত খাঁড়া!”

 দিলীপ গাত্রোত্থান ক’রে বললে, “পিঠের বন্দুক এই আমি হাতে নিলুম, আর হাতের এই রাম-দা উপহার দিলুম তোমাকে! এইবার তুমি ও সশস্ত্র হ’লে তো?”