বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
মড়ার মৃত্যু

 টেবিলের উপরে স্থাপিত রাম-দা’র দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভৈরব বললে, “তারপর? রাম-দা’র সঙ্গে কি বন্দুকের যুদ্ধ হবে?”

 দিলীপ বুঝতে পারলে, ভৈরব মনের ভাব চাপবার চেষ্টা করছে বটে, কিন্তু ভয়ে তার কণ্ঠস্বর কেঁপে কেঁপে উঠছে! সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বললে, “রাম-দা নিয়ে তুমিও উঠে দাঁড়াও! তারপর ঐ মমিটাকে কেটে টুক্‌‌রো-টুক্‌‌রো ক'রে ফেল!”

 শুক্‌‌নো হাসি হেসে ভৈরব বললে, “ওঃ, খালি এই? মড়ার ওপরে খাঁড়ার ঘা?”

 —“হ্যাঁ, খালি এই! শুনলুম, রাজার আইন তোমাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু আমার নিজের একটা আইন আছে। তার কাছে তোমার মুক্তি নেই। তোমার ঘরের ঘড়ীর দিকে তাকিয়ে দেখ। বেলা আটটা বাজতে আর পাঁচ মিনিট বাকি। এই আমি বন্দুক তৈরি রাখলুম। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তুমি যদি ঐ মমিটাকে কেটে টুক্‌‌রো-টুক্‌‌রো ক’রে না ফেল, বন্দুকের গুলিতে আমি তোমার খুলি উড়িয়ে দেব।”

 —“তুমি আমাকে খুন করবে!”

 —“হ্যাঁ!”

 —“কি কারণে?”

 —“তোমার সয়তানির জন্যে।...ভৈরব, এক মিনিট গেল!”

 —“কিন্তু কী সয়তানি আমি করেছি?”

 —“বলা বাহুল্য। তুমিও জানো, আমিও জানি।”

 —“এ হচ্ছে ধাপ্পা দিয়ে ভয় দেখানো।”

 —“দু মিনিট কাট্‌‌ল!”