বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬০
মড়ার মৃত্যু

 —“ধাপ্পায় আমি ভয় পাব না। তুমি হচ্ছ পাগল—বিপদজনক পাগল। তোমার কথায় আমার নিজের সম্পত্তি নষ্ট করব কেন? ওটি মূল্যবান মমি।”

 —“তোমাকে ওটা কেটে খান্ খান্ ক'রে আর পুড়িয়ে ফেলতে হবেই।”

 —“আমি ও-সব কিছুই করব না।”

 —“চার মিনিট কাল!”

 দিলীপ বন্দুক তুলে তার নলটা ফেরালে ভৈরবের দিকে। তার মুখে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞার ভাব।

 —“ভগবানের নামে শপথ করছি, আটটা বাজলেই আমি তোমাকে পাগ্‌লা কুকুরের মত গুলি ক'রে মারব! এর জন্যে আমি ফাঁসি যেতেও রাজি! এখনো উঠলে না? ঘড়ীতে আটটা বাজছে! তবে মর”—দিলীপ ঘোড়ার উপর আঙুল রাখলে।

 ভৈরব উঠে প’ড়ে ভয়ার্ত্ত মুখে বললে, “রক্ষা কর! আমি তোমার কথামতই কাজ করব!”—ব'লেই সে তাড়াতাড়ি রাম-দা তুলে মমির সরুঙ্গে গলার উপরে এক কোপ্‌ বসিয়ে দিলে, কাটা মুণ্ডটা খটাস্ ক'রে মাটির উপরে প'ড়ে গেল! তারপর মড়ার উপরে কোপের পর কোপ্ পড়তে লাগল, ভৈরব এক-একবার কোপ্ বসায়, আর এক-একবার মহাভয়ে ফিরে দেখে, দিলীপ কি করছে! মিনিট-পাঁচেকের মধ্যেই সব শেষ—ঘরের মেঝের উপরে শুক্‌‌নো মড়ার খণ্ড-বিখণ্ড হাত, পা, বাহু, নাক, মুখ, চোখ, ধড় ও কুচি-কুচি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুঞ্জীভূত হয়ে উঠল ।

 দিলীপ বজ্রগম্ভীর স্বরে বললে, “ওর ওপরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগাও!”

 ভৈরব নীরবে তার হুকুম তামিল করলে। শুক্‌‌নো মড়ার টুক্‌রোগুলো